অভিবাসীদের আপন করে নিয়েই তো রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতল ফ্রান্স। যে দলের পল পগবা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, স্যামুয়েল উমতিতি, এনগোলে কান্তে চাইলে খেলতে পারতেন অন্য দেশে। তেমনি ফ্রান্সের ‘অভিবাসী’ কাউলিবালি চাইলে ওই বিশ্বকাপ জয়ী দলের অংশ হয়ে যেতে পারতেন।

ফ্রান্সের হয়ে খেলার দুয়ার খোলা ছিল তার জন্য। ৩১ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের জন্ম ফ্রান্সে। বেড়ে ওঠাও ফ্রান্সে। তবে বাবা-মা সেনেগালিচ। সেই ২৩ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সেনেগালে খেলবেন। একটু সংশয় বোধহয় ছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসা আলো দেখার পর সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়নি তার।

চলতি মৌসুমের শুরুতে নাপোলি ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন কাউলিবালি। চেলসির ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সকে ঠেলে সেনেগালের খেলার সেই কারণ বলেছেন তিনি, ‘এটা ছিল খুবই বড় একটা সিদ্ধান্ত। কারণ আমি ফ্রান্সের হয়ে খেলতে পারতাম। কিন্তু সেই ২৩-২৪ বছর বয়সে আমি সেনেগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেই। ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।’

সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কাউলি বলেন, ‘কোচের সঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। তিনি আমাকে সেনেগালে খেলতে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন, কারণ দেখাতে পেরেছিলেন। এরপর আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। কারণ আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাবা-মা। তারা বললেন, যেটা তুমি ভালো মনে করো, এটা তোমার সিদ্ধান্ত। যখন বললাম, আমি সেনেগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তখন তাদের চোখ দিয়ে যেন আলো ছড়াচ্ছিল, আমি বুঝলাম এটা ভালো সিদ্ধান্ত।’

কাউলিবালি তার ১৩ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে নিজেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেনেগালের হয়ে সাত বছর খেলছেন তিনি। দলটির অধিনায়ক হয়েছেন। ডিফেন্ডার হয়েও সাদিও মানের পরে দেশটির বড় তারকা তিনি। কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দলের বড় ভরসার নামও। যারা চমক দিতে মুখিয়ে আছেন।

সেনেগালে যাওয়ার পর দেশের সকলের ভালোবাসায় মুগ্ধ কাউলিবালি, ‘ওখানে যাওয়ার পরে অন্যদের খুবই আপন মনে হলো, কারণ আমরা যা খাই ওরাও সেটাই খাচ্ছে। আমি বাড়িতে যে ভাষায় কথা বলতাম সেই ভাষা। যেন এটা তো আমারই বাড়ি। মনে মনে তখন বলেছিলাম, ইস, এখানে আগে কেন আসিনি’।’