ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নাম থাকবে ওয়েভারটন পেরেইরার। তবে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে। সেটাও কম কিসে! তার তো জাতীয় দলেই আসার কথাই ছিল না। বিশ্বকাপ দলে থাকার স্বপ্ন, সে তো দূরের আলো। ওয়েভারটন অবশ্য ওই আলোর খুব কাছে। যার পূর্ণতা দিতে চান বিশ্বকাপ ছুঁয়ে।   

অ্যালিসন-এদেরসনরা যে বয়সে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলেছেন। ওয়েভারটন ওই বয়সে খেলতেন ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল। ২৪ বছর বয়সেও তিনি দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবলে ছিলেন। ২০১২-১৭ পর্যন্ত তিনি অ্যাথলেটিকো পারানেনসের গোলবার সামলেছেন। 

ওই ক্লাবে থাকতেই রিও অলিম্পিকে ডাক পেলেন ওয়েভারটন। তার বয়স তখন ২৮। ব্রাজিলিয়ানরা তখন সেভাবে তার নামও জানে না। ব্রাজিলকে প্রথমবার অলিম্পিক জেতাতে ভূমিকা রাখলেন। পেয়ে গেলেন তারকা খ্যাতি। ওয়েভারটনের মতে, ত্রিশে এসে শুরু হলো জীবন। 

২০১৩ থেকে তিনি ভালো কিপিং করতে থাকেন এবং ২০১৬ সালের অলিম্পিক গোল্ড জেতেন। ফিফা প্লাসকে ওয়েভারটন বলেন, ‘ওটাই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। অলিম্পিকে আমরা অনেক মজা করেছি, ভালো সময় কাটিয়েছি। যখন টিম হোটেল থেকে বেরোতাম, নেইমারকে নিয়ে উন্মাদনা চলতো। কিন্তু আমাকে নিয়ে কানাকানি করতো, কে আমি। যখন স্বর্ণ জিতলাম তখনও সেই উন্মাদনা। ততদিনে ওরা জেনে গেছে আমি কে!’ 

ওয়েভারটনের ছেলেবেলা ছিল কষ্টের। তাকে বড় করেছেন তার নানা। বাবাকে চিনেছেন বড় হয়ে। তার মা কাজের খোঁজে বাহিরেই থাকতেন। ওমন পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা ওয়েভার কি স্বপ্ন দেখতে পারেন? তিনি স্বপ্ন দেখতেন, মায়ের জন্য একটা ঘর করে দেবেন। ওই কাজ খোঁজা জীবন থেকে মাকে মুক্ত করবেন। ক্যারিয়ারে ভালো কিছু না হওয়ায় একটা সময় পর্যন্ত তিনি কিছুই পারছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আপনি বলতেই পারেন, আমার একটা জীবন ছিল ত্রিশ বছরের আগে, অন্য জীবন শুরু হয়েছে ত্রিশের পরে।’ 

ব্রাজিলের এই দলটা তারায় ভরা। যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার তারকা আছেন। পিএসজি-জুভেন্টাস-ম্যানসিটি-লিভারপুলের ফুটবলার আছেন। ম্যানইউ-টটেনহ্যাম থেকে চেলসি-আর্সেনালের খেলোয়াড়রা ব্রাজিলের হয়ে খেলছেন। ওই তুলনায় ব্রাজিলের ক্লাবের খেলোয়াড় কম। তবে ওয়েভারটন বাজি ধরে বলতে পারেন, নিজেদের লিগে জাতীয় দলে খেলার মতো অনেকে আছেন। তাদের একজন হতে পেরে উচ্ছ্বসিত তিনি। 

তার যে কষ্টের যাত্রা, যেভাবে উঠে আসা তা রূপকথার গল্প হতে চায় একটা বিশ্বকাপ। ওয়েভারটন চান স্বপ্ন ছুঁয়ে গল্প পূর্ণতা পাক, ‘বিশ্বকাপ দলে থাকা অবশ্যই সন্তুষ্টির। জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা এবং বিশ্বকাপে থাকার স্বপ্নই দেখেছি। এই যাত্রায় এখন আমার জন্য সময়টা বিশ্বকাপের মুকুট পরার। ক্যারিয়ারে উন্নতি হয়েছে মানে প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। ওই স্বপ্ন, প্রত্যাশা সত্য করতে অনুশীলনে এবং ম্যাচে আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’