তাঁর আঁকা অ্যাক্রিলিক পেইন্টগুলো দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য হবেন, পেশাদার কোনো চিত্রকরের হাতের কাজ। সবুজ মাঠের বাইরেও জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া যে একজন আর্টিস্ট, তা অনেকেরই হয়তো অজানা। অবসর পেলেই কল্পনার সব চিত্র সাদা ক্যানভাসেই তুলে ধরেন ডেনমার্ক প্রবাসী এই ফুটবলার। নেপালের কাছে হারের তিক্ততা ভুলতে না পারা জামাল কিছুটা প্রশান্তি খুঁজে নেন নিজের আঁকা ছবি দেখে। আর এই হারের মধ্যেও খুঁজে পান ভবিষ্যৎ সাফল্যের দিশা। সাবিনাদের মতো তাঁরাও জিততে চান সাফের শিরোপা। বুধবার প্রত্যাশার কথাগুলো সমকালের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তা শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়
সমকাল: যে কাঠমান্ডুতে মেয়েরা ইতিহাস গড়েছিল, সেখানে আপনাদের ভরাডুবি...
জামাল: নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমি বলেছিলাম, মেয়েদের জয়টিই আমাদের জন্য প্রেরণা। তাঁদের মতো আমরাও দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চাই। কিন্তু ৩৮ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোলেই পুরো ম্যাচের চেহারা বদলে দিয়েছে। আপনি দেখেন, গোল তিনটি কিন্তু সেট পিসে হয়েছে। আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। সেদিন রাতে ঘুমাতে পারিনি। ডিনার করতে পারিনি, কিছুই খেতে পারিনি। একটা সুযোগ হাতছাড়া করলাম।
সমকাল: কম্বোডিয়ার মাটিতে জয়ের পর নেপালের কাছে বড় ব্যবধানে হারের কারণ কী?
জামাল: ম্যাচে মনোযোগ ছিল না। ঠিকমতো মার্কিং করতে পারিনি আমরা। আমি কিছু প্লেয়ারকে দেখছি, ওরা অতি আত্মবিশ্বাসী ছিল। এত সহজে গোল হজম করি, এগুলো তো ঠিক না।
সমকাল: নেপালকে হারাতে পারেননি। সাফ জিততে হলে কী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন?
জামাল: এক ম্যাচেই কিন্তু সব শেষ হয়ে যায়নি। আমি মনে করি, আগামীতে আমাদের সাফ জয়ের সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের কঠিন অনুশীলন করতে হবে। মেয়েরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিল বলেই কিন্তু সাফল্য এসেছে। আমাদের জন্যও তা করা দরকার।
সমকাল: কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে তো সম্ভব নয়। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময়ই তো ক্লাবের ব্যস্ততা।
জামাল: এটা ঠিক। সাফের দুই-তিন মাস আগে ক্যাম্প শুরু করা উচিত। আর মাঝেমধ্যে তো ফিফা উইন্ডোতে একসঙ্গে হবেই সবাই। তবে আমি মনে করি, সাফ জিততে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সমকাল: মেয়েরা সাফে জেতার পর দেশের ফুটবল নিয়ে সবার কৌতূহলও বেড়ে গেছে...
জামাল: এটা ঠিক বলেছেন। মেয়েরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ছেলেরা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো করছেন। মেয়েদের ফুটবলের জন্য অনেক ইনভেস্টমেন্ট করেছে বাফুফে। একসঙ্গে থাকে, তাঁরা বেতনের আওতাভুক্ত, সব ফ্যাসিলিটি তাঁদের দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন। আমরা এক মাস ভালো ক্যাম্প করেছি। যখন সবকিছু ঠিক থাকবে, তখন ভালো রেজাল্ট আসবে।
সমকাল: মেয়েদের সাফ জেতাতে আপনাদের দায়িত্বটা কি বেড়ে গেল?
জামাল: আমি মনে করি, প্রতি ম্যাচে ছেলেদের ওপর চাপ থাকে। কারণ সমর্থকরা প্রত্যাশা করেন, আমরা জিতব। এই প্রেশারটা যে কোনো ম্যাচ, সাফ, এশিয়া কাপ- সব জায়গাতেই থাকে। একজন ফুটবলার হিসেবে আমি মনে করি, এই চাপটা স্বাভাবিক। কারণ, আপনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য মাঠে নামেন। মেয়েরা সাফ জেতার পর আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলছি, পরবর্তী সাফ আমরা জিতব।
সমকাল: মেয়েদের বেতন কাঠামো আছে, তবে ছেলেদের নেই...
জামাল: আমরা বেতন পাই ক্লাব থেকে। আর মেয়েরা পায় ক্লাব ও বাফুফে থেকে। আমাদের কোনো ফিক্সড বেতন নেই। আসলে এটাই বাস্তব এবং সত্য। পৃথিবীজুড়েই একটা ছেলে ফুটবলে বেতন পান ক্লাব থেকে, জাতীয় দল থেকে নয়।
সমকাল: নারীদের সাফল্যকে কি প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন?
জামাল: হ্যাঁ, ওরা (মেয়েরা) দেশকে সাফল্য এনে দিয়েছে। এখন আমাদের ফোকাস নিজেদের দিকে। আমাদের ভালো করতে হবে। মেয়েদের এবারের সাফ জেতায় আমরা অনুপ্রেরণা নিচ্ছি। আমরাও চিন্তা করছি, যদি আগামী বছর সাফ হয়, ইনশাআল্লাহ আমরাও চ্যাম্পিয়ন হব।
সমকাল: ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আপনি লিগ জিততে পারেননি। নতুন ক্লাবের হয়ে সেটা জিততে কতটা মরিয়া?
জামাল: টার্গেট হচ্ছে এবার চ্যাম্পিয়ন হই। আমি শেখ রাসেল কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের আমি বলেছি, অভিজ্ঞ প্লেয়ার লাগবে। আপনি যদি দেখেন, সাইফের টিম ভালো ছিল; কিন্তু বেশিরভাগ প্লেয়ার অনেক ইয়াং। প্রতিবছরই তারা তরুণ দল গঠন করে।