কাতার বিশ্বকাপের বাঁশিতে ফু পড়ে গেছে। বিশ্বকাপের সাত সপ্তাহ বাকি মাত্র। আন্তর্জাতিক সূচিও শেষ। বিশ্বকাপের আগে সব দল প্রস্তুতি ম্যাচও পাবে না। এখন কাজ তাই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোচদের। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা, খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা তাদের।

ব্রাজিল কোচ তিতের যেমন গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বকাপেও সুইসদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল সেলেকাওরা। তবে সুইস গেট আটকে গিয়েছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

এবারও বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল নিয়েই আসবে সুইজারল্যান্ড। বিশ্বকাপের আয়োজনে ফিফা তাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে হবে এমন পাঁচ সুইস তারকায় নাম উল্লেখ করেছে।

ইয়ান সমার: সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলে দশ বছর খেলার অভিজ্ঞতা তার। দলটির গোলবারে আস্থার নাম সমার। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রতি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলেছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক মাত্র দুই গোল হজম করেছেন। সুইসদের রক্ষণ এবং গোলবারের নিচে সমারকে ফাঁকি দেওয়া প্রতিপক্ষের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে পেনাল্টি সেভিং স্পেশালিস্টও বলা হয়। সমার আট মৌসুম খেলছেন জার্মান ক্লাব বরুশিয়া মানশেনগ্লাডবার্গে। সেখানেও দারুণ সফল তিনি।

সুইজারল্যান্ডের পেনাল্টি স্পেশালিস্ট গোলরক্ষক সমার। ছবি: ফাইল

রিকার্ডো রদ্রিগুয়েজ: সুইজারল্যান্ডের আরেক ভরসার নাম রিকার্ডো রদ্রিগুয়েজ। ইতালির ক্লাব তুরিনোয় খেলেন ৩০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। ক্লাবে তিনি লেফট ব্যাক হিসেবে খেলেন। জাতীয় দলেও ওই ভূমিকায় বেশি দেখা যায়। তবে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলেন তিনি। সুইসদের হয়ে ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ১০০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

সুইস ডিফেন্ডার রদ্রিগেজ। ছবি: ফাইল

গ্রানিথ সাকা: কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইজারল্যান্ডের বড় শক্তি অভিজ্ঞতা। দলটির শুরুর একাদশের অধিকাংশ ফুটবলারের বয়স ত্রিশ বছরের কাছাকাছি। যারা একসঙ্গে প্রায় দশ বছর ধরে খেলছেন। গ্রানিথ সাকা তাদের একজন। সুইসদের মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসার নাম। তিনি সুইসদের হয়ে ১১ বছরে ১০৬ ম্যাচ খেলে ১২ গোল করেছেন। ছয় মৌসুম ধরে আর্সেনালের মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসাও তিনি।

আর্সেনালের সুইস মিডফিল্ডার সাকা। ছবি: ফাইল

রেমো ফ্রেউলার: সাকার মতোই শক্তিশালী এক মিডফিল্ডার ৩০ বছর বয়সী রেমো ফ্রেউলার। তার জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা পাঁচ বছরের। ফিট থাকলে বিশ্বকাপে খেলবেন ৫০তম ম্যাচ। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা মাঝামাঝি হলেও ফ্রেউলার ইতালির ক্লাব আটালান্টায় ছয় মৌসুমে দুইশোর ওপরে ম্যাচ খেলেছেন। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ফেরা নটিংহ্যাম ফরেস্টে যোগ দিয়েছেন তিনি। এই সুইজারল্যান্ড শারীরিক ফুটবল খেলে। সর্বশেষ ইউরোতে সবচেয়ে বেশি ফাউল করা ও কার্ড খাওয়া দল ছিল সুইজারল্যান্ড। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে বাড়তি পাওয়ার যোগ করবেন ফ্রেউলার।

সুইজারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক ফুটবলে শক্তি জোগানো আরেক সুইস মিডফিল্ডার ফ্রেউলার। ছবি: ফাইল

জর্ডান শাকিরি: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে খেলতে পারেন। রাইট উইঙ্গে খেলতে পারেন। লিভারপুলে স্ট্রাইকার পজিশনেও খেলেছেন তিনি। পাঁচ ফিট সাত ইঞ্চি উচ্চতার টাইট-ফিট বডির শাকিরি প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারেন বড় হুমকি। জাতীয় দলে ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ৩০ বছর বয়সী এই তারকা ১০৮ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে তিন বছর বায়ার্ন মিউনিখ, এক মৌসুম ইন্টার মিলান, তিন মৌসুম স্টোকসিটি এবং তিন মৌসুম লিভারপুলে খেলেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে খেললেও ফর্মে আছেন তিনি।

সুইসদের আক্রমণের ভরসা শাকিরি। ছবি: ফাইল

কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ড খেলবে ব্রাজিল, সার্বিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে। ব্রাজিলের পরে ওই গ্রুপের ফেবারিট তারা।