বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে কোহলির বিরুদ্ধে ফেক ফিল্ডিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। গত বুধবার ওই ম্যাচে ভারতকে নাগালে পেয়েও বৃষ্টি আইনে ৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। হারের জন্য ক্রিকেটার ও ভক্তরা ভেজা মাঠ ও ফেক ফিল্ডিংকে দায়ী করেছেন। কোহলির ওই ফেক ফিল্ডিং থেকে জরিমানা হিসেবে পাঁচ রান পাওনা ছিল বাংলাদেশের। তা যদি আসত, তাহলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। 

এ নিয়ে যখন আলোচনা চলছে। তখন এসব বিতর্কে বাংলাদেশের পাশে না থেকে উল্টো খোঁচা দিয়েছিলেন ভারতের ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। বাংলাদেশের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, অজুহাত দিলে বড় হওয়া যায় না। তবে ফেক ফিল্ডিং নিয়ে আলোচনায় হার্শা ভোগলের উল্টো পথে হাঁটলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া।

বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে তিনি জানালেন, নুরুল হাসানের করা সেই অভিযোগ সঠিক ছিল।

ওই ম্যাচে ১৮৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার মতো বন্ধ থাকার পর খেলা আবার শুরু হয়। ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্ট্যান পদ্ধতিতে বাংলাদেশের পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ ওভারে ১৫১ রান। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।

কোহলির ফেক ফিল্ডিংয়ের ঘটনাটা অবশ্য বৃষ্টি নামার আগেই। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাংলাদেশের ইনিংসের সপ্তম ওভারে লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন যখন রানের জন্য দৌড়াচ্ছিলেন, বল হাতে না থাকলেও ফিল্ডিংয়ের বল সংগ্রহ করে থ্রোর ভান করেছিলেন কোহলি। নিয়ম অনুযায়ী যা ৫ রান জরিমানাযোগ্য। 

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ম্যাচও হেরেছে ওই ৫ রানেই। আকাশ চোপড়া তাঁর টু্ইটে সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি আম্পায়ারদের নজরে এলে তারা ৫ রান পেত। আর আমরাও ৫ রানে ম্যাচ জিতেছিলাম। ভারতীয় দল এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও এর পর থেকে আম্পায়ারদের আরও সতর্ক হতে হবে।

মূলত কোনো ফিল্ডার যদি বল না ধরেই থ্রো করার ভান করেন, সেটা ফেক ফিল্ডিং হিসেবে বিবেচিত। এ নিয়ে আইসিসির একটা আইন চালু আছে। ২০১৭ সালের ওই আইন অনুযায়ী, কোনো ফিল্ডার তাঁর কথা বা কাজ দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটসম্যানের মনোযোগ ভিন্নমুখী করলে বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কিংবা বাধার সৃষ্টি করলে, তা অন্যায্য হবে। সেক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে ব্যাটিং দলের সঙ্গে ৫ রান যোগ হয় এবং বলটিকে ঘোষণা করা হয় ডেড।