এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখেছে আম্পায়ারদের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান ম্যাচে সাকিব আল হাসান নিজেই ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হন। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দেয় সেই সিদ্ধান্ত। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর আম্পায়ারিং নিয়ে আর কোনো বিতর্ক চাইছে না আইসিসি। দু'টি সেমিফাইনালে এমন আম্পায়ারদের রাখা হয়েছে, যারা আপাতত বিতর্কের বাইরে। 

রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের ম্যাচে ভুল আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। দলের টপ অর্ডার ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার এবং অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ‘ভুয়া’ লেগ বিফোরে সাজঘরে পাঠানো হয়েছে। শাদাব খানের লো ফুলটস বল সাকিবের পায়ে লাগলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ আউট দেন। তৎক্ষণাৎ সাকিব রিভিউ নিলে স্পষ্ট দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগছে। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার ল্যাংটন রুসেরে বারবার রিপ্লে দেখেও আউটের ইশারা করেন সেটাকে। একই আম্পায়ারের বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অজিদের শেষ ম্যাচে ৫ বলে ওভার দিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন জিম্বাবুয়ের এই আম্পায়ার।

ভারতের বিপক্ষেও বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির পরিষ্কার 'ফেক থ্রো' চোখ এড়িয়ে গেছে আম্পায়ারদের। ওই ফেক থ্রো থেকে পাঁচ রান পেলে ভারতের বিপক্ষে জিতেও যেতে পারতো বাংলাদেশ।

পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের প্রথম সেমিফাইনালে মারাইস ইরাসমাস এবং রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রিচার্ড কেটেলবরোকে। চতুর্থ আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারি হিসাবে থাকবেন যথাক্রমে মাইকেল গফ এবং ক্রিস ব্রড।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে মাঠের দুই আম্পায়ার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে কুমার ধর্মসেনা এবং পল রাইফেলকে। দু'জনেই প্রাক্তন ক্রিকেটার। আম্পায়ার হিসাবেও সুনাম অর্জন করেছেন। সেই ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ার হিসাবে থাকছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিস গাফানি। চতুর্থ আম্পায়ার রড টাকার এবং ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুন। বাকি থাকলো ফাইনাল ম্যাচ। আইসিসি জানিয়েছে, দু'টি সেমিফাইনালের পরেই মেলবোর্নে আগামী রোববার (১৩ নভেম্বর) ফাইনালে কারা দায়িত্বে থাকবেন তা জানানো হবে।

এদিকে, পাকিস্তান ম্যাচে আবারও ইরাসমাসের দায়িত্ব পড়ায় হতাশ পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এর আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও তিনি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে তৈরি হয়েছিল বির্তক।