ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা চলছেই। ক'দিন আগে পর্তুগালের কোচ যখন সিআর সেভেনকে নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত করেছিলেন, তখনও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভসের কোচ স্টেভ ডেভিস তো কাঠগড়ায় তোলেন ইউরোজয়ী কোচ ফার্নান্দো সান্তোসকে। এ নিয়েও চলে কানাঘুষা। এর মধ্যে ফিফার সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পর্তুগালের কোচ শোনালেন আশার কথা। তাঁর কাছে এখনও রোনালদোই বড় অস্ত্র। কাতারের মঞ্চে তিনিই পারবেন আলো ছড়াতে, দেখাতে চ্যাম্পিয়ন পথটা।

ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততা শেষ করে দলগুলো এখন কাতারমুখী। একের পর এক প্লেন নামছে দোহাতে। সেখানে নিজেদের পূর্বনির্ধারিত বেস ক্যাম্পেই থাকবে তারা। এর পর শুরু হবে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তার মধ্যে রোনালদোকে দলভুক্ত করা নিয়ে জবাব দেন সান্তোস, 'আমি এক মাস আগে কী হলো সেটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। বর্তমান নিয়ে শুধু ভাবতে চাই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আগের চারটি ম্যাচে ছিল। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে অন্যদের মতো সেও যোগ্য। বাকিদের মতো সেও নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছে। আর দশটা খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে আমি যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলাম, তার বেলায়ও একই। তারা সবাই এখানে এসেছে জয়ের ক্ষুধা নিয়ে, নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে এবং লড়াই করে পর্তুগালকে চ্যাম্পিয়ন করতে। আমি এর চেয়ে বেশি চিন্তা করতে চাই না।'

সময়টা ভালো যাচ্ছে না রোনালদোর। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর বেশিদিন থাকা হয়নি। চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা নিয়ে ফেরেন নিজের চেনা ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানে আরও বাজে অবস্থা। গত মৌসুমটা খুবই খারাপ যায় তাঁর। এবারও গোলের জন্য নিয়মিত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ম্যানইউও তাঁর ওপর খানিকটা নাখোশ। নিয়মিত দলে জায়গা হচ্ছে না। কখনও সাইডবেঞ্চে বসে দেখতে হচ্ছে রেড ডেভিলসদের হার-জিত। রোনালদো নিজেও ভীষণ হতাশ। অভিমানে একবার তো ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি ম্যানইউর বর্তমান কোচ এরিক টেন হাগ ভালোভাবে নেননি।

এদিকে পর্তুগাল এবারও প্রথম সোনালি ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে কাতারে নামবে। ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া মূল আসরে দলটির প্রথম ম্যাচ ২৪ নভেম্বর ঘানার বিপক্ষে। এবার গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া ও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।