রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। সর্বশেষে ইউরোয় পথ থেমেছে শেষ ষোলোয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ঝামেলায় না পড়লেও নেশনস লিগে ভালো খেলেনি জার্মানি। তবু কাতার বিশ্বকাপের ফেবারিটের তালিকায় তাদের নাম। কারণ বিশ্বকাপের বাজনা বাজতেই ওরা ভিন্ন দল হয়ে যায়। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির ফরোয়ার্ড সের্গি জিনাব্রি বলেছেন, জার্মানি এবার জ্বলে আছে।

প্রশ্ন: জার্মানির বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব কেমন কেটেছে? 

জিনাব্রি: এটা খুব ভালোভাবেই গেছে। যদিও বিশ্বকাপের মতো আসরে সবসময় আমি বাছাইপর্বের মতো প্রতিপক্ষ পাবেন না। 

প্রশ্ন: আপনাদের কোচ আগে বায়ার্ন মিউনিখে ছিলেন। দুই জায়গায় তার সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজের মধ্যে পার্থক্য দেখেন? 

জিনাব্রি: কিছু কিছু সমন্বয় সবসময়ই করতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের খেলার ধরন আগের মতোই আছে। আমরা বায়ার্নে ওই স্টাইলে খেলে সফল। জাতীয় দলেও। হয়তো একটু এদিক-ওদিক হয়েছে। 

প্রশ্ন: জোয়াকিম লো’র অধীনে খেলেছেন। সেখানে কী ভিন্ন কিছু ছিল? 

জিনাব্রি: স্টাইলে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। আমর এখন বেশি প্রেসিংয়ে ও আগ্রাসী ফুটবলে নজর দিয়েছি। আগে ছিল পজিশন ফুটবল, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হতো। 

প্রশ্ন: দলের অধিকাংশ ক্লাবেও একসঙ্গে খেলেন। এটার সুবিধা কী?

জিনাব্রি: আমরা বায়ার্নে অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে খেলেছি। একে অপরের সঙ্গে ভালো জানাশুনা। সকলের সঙ্গে মজা করছি। এটা দলের পরিবেশের জন্য ভালো। 

প্রশ্ন: দলের পরিবেশ এখন কেমন? সর্বশেষ ইউরোর চেয়ে ভিন্ন নিশ্চয়? 

জিনাব্রি: ক্ষুধাটা আগের মতো। জার্মানির হয়ে খেলতে হয় মানে প্রত্যাশা থাকতে হয় বড়। আমরা ভালো খেলতে চাই। এই জায়গাগুলোতে তেমন পরিবর্তন নেই। ইউরো ভালো যায়নি এবং আমরা আবার খেলতে মুখিয়ে আছি। বলতে পারেন যে, সেজন্য আমরা এবার আরও বেশি জ্বলে আছি।

প্রশ্ন: গ্রুপ পর্বে জার্মানি খেলবে স্পেন, জাপান ও কোস্টারিকার বিপক্ষে। গ্রুপটাকে কীভাবে দেখছেন?

জিনাব্রি: স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ ভালো যায়নি (৬-০ ব্যবধানে হার)। জাপানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় বুন্দেসলিগা, প্রিমিয়ার লিগে খেলে। কোস্টারিকা হয়তো আন্ডারডগ কিন্তু তারাও সবটা দিয়ে লড়বে। প্রত্যেক ম্যাচই সমান সম্মান দিয়ে খেলতে হবে। 

প্রশ্ন: স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটা কীভাবে দেখছেন? বিশ্বকাপের দুই জায়ান্ট (স্পেন-জার্মানি) মুখোমুখি হবে? 

জিনাব্রি: আমরা জিততে চাই। এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বা দ্বিতীয় হওয়া কঠিন হবে। আমাদের ম্যাচটি জিততে হবে এবং আমরা জিততে চাই। আমাদের সর্বশেষ হারের সেই স্মৃতি এখনও তাজা।  

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে অভিষেকের জন্য নিশ্চয় মুখিয়ে আছেন? 

জিনাব্রি: হ্যা, ২৭ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে আমি মুখিয়ে আছি। একটু সময় লেগে গেলো আমার। তবে আশা করছি সফল হবো। 

প্রশ্ন: কাতারে জার্মানির থেকে প্রত্যাশা কী? 

জিনাব্রি: সফল টুর্নামেন্ট পার করা। আমাদের ভালো পরিকল্পনা আছে। ইউরো ভালো যায়নি সেটা বিশ্বকাপে পূরণ করতে চাইবো। আমাদের দল ভালো এবং পূর্বের কঠিন টুর্নামেন্টের ক্ষত শুকিয়ে গেছে। কাতারে আমরা আত্মবিশ্বাস  ও সফল হওয়ার পরিষ্কার লক্ষ্য নিয়ে যাচ্ছি।