প্রথম দিনই ঝলকটা দেখাতে চায় আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ যখন সৌদি আরব, তখন তো এমন আশা থাকছেই। একদিকে টানা ৩৬ ম্যাচে অজেয় থাকার দারুণ এক রেকর্ড, অন্যদিকে দলের তারকা খেলোয়াড়দের তুমুল ফর্ম- দুইয়ে মিলে কাতারে পা রেখেই উৎসবটা করতে চাইছেন আকাশি-সাদাদের কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রিয় দলের রঙিন শুরু দেখার অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন সমর্থকরাও।

অবশ্য প্রতিপক্ষ কে- সেদিকে নজর নেই আর্জেন্টিনার কোচের। তাঁর টার্গেট, প্রথম থেকেই গুছিয়ে খেলা। যেমন আভাস দিলেন কোপা আমেরিকাজয়ী এই কোচ, 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমরা জানি যে বিশ্বকাপে একটি ভুল, একটি অঘটন বা অপ্রত্যাশিতভাবে এমন কিছু ঘটতে পারে, যা দলকে ছিটকে দিতে পারে। এমন অনেক উদাহরণ আছে। যেমন- ২০০২ সালে আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব থেকে) ছিটকে গিয়েছিল, যা প্রাপ্য ছিল না। এমনটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি অন্যায্য পেনাল্টির কারণে, যেটা আসলে পেনাল্টি ছিল না। আমাদের প্রথম ম্যাচ থেকেই দারুণ ফুটবল খেলতে হবে। যেটা গত কয়েক দিন আমরা করে আসছি। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, সেটা মাথায় নেওয়া যাবে না।'

মাঝে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায় বেরসিক চোট। মাঝমাঠের তারকা লো সেলসো ছিটকে যান। এরপর নিকোলাস গঞ্জালেসকেও হারায় তারা। দলে আসে নতুন মুখ আলমাদা। সেই টেনশন শেষ না হতেই আবার ফিটনেস নিয়ে ভাবতে হয় স্কালোনিকে। আপাতত ওই মেঘটাও সরে গেছে। এখন অপেক্ষা মহামঞ্চে লড়াই করার।

তার আগে পুরোনো দুঃস্মৃতি থেকেও শিক্ষা নিতে বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। যদিও পুরোনো ইতিহাস সতর্কবার্তাই দিয়ে রাখল দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের। দুই দলের আগের চার দেখায় দুটিতে জেতে আর্জেন্টিনা আর দুটি ড্র করে। তাই তো এই সৌদিকে একেবারে ফেলনা মনে করার জো নেই। কোচ স্কালোনি যেন সে কথাটাই শিষ্যদের মনে করিয়ে দিলেন এভাবে, 'বিশ্বকাপ খুবই নিষ্ঠুর; যারা এটির যোগ্য, তাদের প্রতি কখনও কখনও খুবই অন্যায্য। অনেক সময় এমন দল ফাইনালে উঠে যায়, যারা টুর্নামেন্টে বাকিদের ওপর আধিপত্য করতে পারেনি। বিশ্বকাপ এমন নিষ্ঠুর বলেই এটা আপনাকে ভুল করার বা আত্মঘাতী হওয়ার সুযোগ দেবে না। বিশ্ব ফুটবলে এমন হতেই পারে। সৌদি আরবকে কিছুতেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে হবে। আমি মনে করি, এখানে সব আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করার চেষ্টা করতে হবে। আশা করি, আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে।'

এদিকে সৌদির কোচ রেনার্ডও নিজ দল নিয়ে আশাবাদী। আর্জেন্টিনার মতো দলের সঙ্গে টক্কর দেওয়াটাই তাঁর কাছে অনেক বড় কিছু। তবে আলবেসেলেস্তেদের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে কীভাবে আটকানো যায়, সেটাই তার বড় চ্যালেঞ্জ। যেমনটা বললেন এই ফরাসি কোচ, 'আর্জেন্টিনাকে হারানোর কথা আমি বলব না। তারা খুবই শক্তিশালী দল। যে দলে মেসির মতো একজন আছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, তাদের চাপে রাখা। এরপর সুযোগ পেলে সেটার সদ্ব্যবহার করা।'

একদিকে আর্জেন্টিনা, আরেকদিকে সৌদি। দুই দলকে পাল্লায় রাখলে তফাৎটা হবে আকাশ-পাতাল। তবু বিশ্বকাপ বলে কথা, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়! তা ছাড়া অঘটন বলেও একটা শব্দ আছে। যদি সেই শব্দের ফাঁদে পা দেয় ফেভারিট আর্জেন্টিনা, তাহলে হয়তো যাত্রাটাই ভঙ্গ হয়ে যাবে দর্শকনন্দিত দলটির।