সংবাদ মাধ্যম গোলের মতে, সৌদি আরবের কাছে ধরাশায়ী আর্জেন্টিনা। হেড লাইনের ‘ফ্লোরড’ শব্দটাকে ভেঙে বললে ‘মেসিদের শুইয়ে দিয়েছে সৌদি আরব’। মার্কা আর্জেন্টিনার হারকে বলছে ‘বিগ সারপ্রাইস’ হিসেবে। বিস্মিত হওয়ারই মতো। আসরের প্রথম অঘটন ঘটল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। 

কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম লুসাইল। ৮০ হাজার দর্শকের গ্যালারি ছিল পূর্ণ। সৌদি আরব কাতারের প্রতিবেশি দেশ হলেও আকাশি-সাদা জার্সিতে ভরা ছিল গ্যালারি। শীতের আকাশে যেমন আকাশের সাদা মেঘ ওড়ে না। তেমনি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোল খাওয়ায় আকাশি-সাদা জার্সি পরা ভক্তরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। 

অথচ ম্যাচটা আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল ‘ইন স্টাইলে’। আর্জেন্টিনার নিজস্ব ধাঁচে। শুরুতেই গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। ১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে লিড এনে দেন। প্রথমার্ধে সৌদির জালে জড়িয়ে যায় আরও তিনটি গোল। যদিও অল্পের জন্য, কখনও অল্প পা, কখনও বাহুর খানিকটা বেরিয়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপে নতুন আসা ‘সেমি অটোমেটেড প্রযুক্তিতে’ গোলগুলো বাতিল হয়ে যায়। 

প্রথমার্ধে কোণঠাসা সৌদি দ্বিতীয়ার্ধে যেন গোল শোধ করার প্রত্যয় নিয়ে নেমেছিল। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ও ৫৩ মিনিটে গোল করে তারা উল্লাসে ভাসে। এর মধ্যে ৩১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার সালেম আল দাউসারির মধ্যে যেন মেসি ভর করেছিল। তিনি বক্স থেকে দারুণ ড্রিবল করে দুর্দান্ত এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। 

তার ওই গোলেই থেমেছে আর্জেন্টিনার ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার যাত্রা। যে অপরাজিত থাকার দৌড়টার কারণেই বিশ্বকাপে মেসিদের ফেবারিট বলা হচ্ছিল। সেই দম্ভ যেন ভেঙেছে। এর আগে আর্জেন্টিনা ২০১৯ সালের জুনে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোপা আমেরিকায় ম্যাচ হেরেছিল। এরপর হারের স্বাদ পায়নি দলটি। লিওনেল স্কালোনির দল এই সময়ের মধ্যে ব্রাজিল, ইতালিকে হারিয়েছে। জার্মানিকে রুখে দিয়েছে। তাদের সেই যাত্রা কিনা থামল এভাবে! সৌদির কাছে হেরে।