১৮ অক্টোবর প্যারিসে হয়ে গেল ব্যালন ডি'অর গালা। সে রাতে বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার 'কোপা ট্রফি' জয়ের দৌড়ে ফেভারিট ছিলেন জামাল মুসিয়ালা। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ মিডফিল্ডারকে হারিয়ে কোপা জিতে নেন পাওলো গাভি। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের এই দুই উঠতি প্রতিভার মধ্যে শত্রুতা যেন পাকাপাকি হয়। ট্রফি জেতা গাভিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়ে হারিয়েছিলেন জামাল। এবার বিশ্বকাপেও মুখোমুখি দু'জন। তাই আজ দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্টের লড়াইটা দুই তরুণেরও!

কোস্টারিকার বিপক্ষে ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছে গাভির। সেদিন তিনি শুধু স্পেনের পক্ষে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডই করেননি, দেশটির কম বয়সী বিশ্বকাপ গোলদাতাও হয়েছেন। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের পর তিনিই বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা। স্প্যানিশ এ তরুণ কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রথম গ্রুপ ম্যাচে রীতিমতো মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। ৭-০ গোলের জয়ের রূপকার ছিলেন সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ এ মিডফিল্ডার। পুরো মাঠ চষে বেড়িয়েছেন, গোল করিয়েছেন, নিজে করেছেন- পুরো দলকে খেলিয়েছেন তিনি।

সেদিক থেকে ১৯ বছরের জামাল কিছুটা পিছিয়ে। জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে তাঁর দল জার্মানি। তিনি নিজেও ভালো খেলতে পারেননি বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচে। তবে জার্মান মেসির খেতাব পাওয়া এ তরুণ কিন্তু গাভিকে সামনে পেলেই জ্বলে ওঠেন। এই যেমন কোপা ট্রফি ঘোষণার সপ্তাহখানেক পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মুখোমুখি হয়েছিলেন দু'জন। ক্যাম্প ন্যুর সে ম্যাচের আগে গাভিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন জামাল, 'অবশ্যই আমি ও জুডের কোপা ট্রফি জেতার সম্ভাবনা ছিল। গাভিও দারুণ খেলোয়াড়। তাঁর জন্য আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে আমি পুরস্কার পাই বা না পাই, নিজের কাজটা আমি ঠিকই করে যাব। আর বার্সার বিপক্ষে ন্যু ক্যাম্পে খেলাটা সব সময়ই দারুণ। বাড়তি অনুপ্রেরণা কাজ করে।' ২৬ অক্টোবর গাভির ঘরে এসে ৩-০ গোলে জিতে গিয়েছিলেন জামাল। শুধু তাই নয়, গত সেপ্টেম্বরে অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায়ও ২-০ গোলে বার্সাকে হারিয়েছিলেন তাঁরা। দুই ম্যাচেই বায়ার্নের প্লেমেকার হিসেবে দারুণ খেলেছিলেন জামাল।