ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আশা জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের 

আশা জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের 

ছবি- সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:৩৪ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:১১

বেনোনিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আজকের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি ছিল ‘অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল’। পাকিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হতো না, বাংলাদেশকে মেলাতে হতো নেট রানরেটের হিসাবও। যদিও কঠিন সেই সমীকরণ সহজ করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে তাদেরকে ১৫৫ রানে আটকে রাখে জীবন-বর্ষণরা। সেমিফাইনালে উঠতে হলে বাংলাদেশকে ৩৮.১ ওভারের মধ্যে করতে হতো ১৫৬। তবে সেই রানটুকুও করতে পারেনি ব্যাটাররা। ৫ রানের হারে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। পাকিস্তানের বোলিং তোপে ১৫০ রানে অলআউট হয়ে যুব বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় রাব্বির দল।

১৫৬ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা বেশ আক্রমণাত্মকভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার। দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় যুবারা। ১২ বলে ১৯ রান করা জিসানকে ফেরান উবায়েদ শাহ। জিসানকে ফেরানো উবায়েদই নিজের পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার আশিকুর রহমানকে। ১১ বলে ৪ রান করেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। ৩০ বলে ২০ রান করা রিজওয়ানকে ফেরান আলী রাজা। এতেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয় পাকিস্তান। এক পর্যায়ে ৮৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে যুবা টাইগাররা। যদিও সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান শিহাব জেমস ও অধিনায়ক রাব্বি।

দলীয় ১২৩ রানে শিহাব আর ১২৪ রানে মাহফুজুর রাব্বির উইকেটই বাংলাদেশকে নিয়ে যায় খাদের কিনারায়। ১২৭ রানে ইমন আউট হলে বাংলাদেশের হার হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সেখান থেকেই বর্ষণ আর মারুফের প্রতিরোধ। ২৩ রানের জুটি দেখাচ্ছিল জয়ের স্বপ্ন। তবে শেষদিকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতেই বোল্ড হয়ে যান মারুফ। এতে ৫ রানের হারে সুপার সিক্স থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। অন্য প্রান্তে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন বর্ষণ। বাংলাদেশের হারে সেমিতে ওঠে পাকিস্তান।

এর আগে সুপার সিক্সের গ্রুপ ওয়ানের চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনির উইলোমুর পার্কে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। শুরুতে ভালো করলেও টাইগার যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের জন্য ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান। দলীয় ৩৭ রানে ভেঙে যায় পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। নবম ওভারের চতুর্থ বলে শামিলকে বোল্ড করেন রোহানত দৌল্লাহ বর্ষণ। নিজের পরের ওভারেই তিনে নামা আজান আওয়াইসকে উইকেটকিপার আশিকুর রহমানের ক্যাচ বানান রোহানাত। ১৭তম ওভারে পাকিস্তানের অধিনায়ক সাদ বেগ যখন রানআউট হলেন দলটির স্কোর ৬৬/৩।

এরপর রান তুলতে হাঁসফাঁস করেছে পাকিস্তানিরা। ওপেনার শাহজাইব জীবনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে যখন ফেরেন ২৩.৪ ওভারে। ৬৭ বলে ২৬ রান করেন শাহজাইব। দলীয় স্কোর ৮৯ হতেই পাকিস্তান হারাল আরও দুই ক্রিকেটারকে। আহমেদ হাসানকে আশিকুরের তৃতীয় শিকার বানিয়ে নিজেও তৃতীয় উইকেট পেয়ে যান রোহানাত। জীবন এরপর ফিরিয়ে দেন হারুন আরশাদকে।

শেষদিকে পাকিস্তানের হাল ধরেন আরাফাত মিনহাস ও আলি আসফান্ড। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি আসফান্ড। ২৯ বলে ১৯ রান আউট হন তিনি। আশার যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন উবাইদ শাহ (১) ও মোহাম্মদ জিশান (৪)। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রাখেন আরাফাত মিনহাস। শেষ দিকে ৪০ বলে ৩৪ রানে এই পাক ব্যাটার আউট হলে ৫৬ বলে হাতে থাকতেই ১৫৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের হয়ে রোহানত উদৌল্লাহ বর্ষণ ও পারভেজ জীবন চার করে উইকেট নেন। এ ছাড়াও এক উইকেট নেন মাহফুজুর রহমান।

আরও পড়ুন

×