ছাইচাপা ভয়টাই ঠিকরে উঠল বিধ্বংসী আগুনে। আর সেই আগুনই ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের দুই বাতিঘর জার্মানি আর স্পেনে। শেষ পর্যন্ত জার্মানি কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে স্পেনের আগুন নেভাতে পারলেও নিজেদের ঘর রক্ষা করতে পারেনি। গতবারের মতো এবারও চারবারের চ্যাম্পিয়নদের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে। প্রথমে বেলজিয়াম, তার পর জার্মানির বিদায়- এ যেন বিশ্বকাপে বিসর্জনের রাত। যেখানে কান্না আর বিষাদে জড়ানো ছিল প্রতিটি শূন্যতায়।

এদিন আল বায়াত যেন জোড়া টিকিট নিয়েই খেলা দেখতে এসেছিল জার্মান সমর্থকরা। চোখের সামনে জার্মানি-কোস্টারিকা ম্যাচ, মোবাইল কানে স্পেন-জার্মানি ম্যাচের আপডেট। রীতিমতো ডুয়েল চলছিল বিশ্বকাপে। একদিকে স্পেন-জার্মানি মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অন্যদিকে এশিয়া আর মধ্য আমেরিকার জোট! ম্যাচের প্রথমাংশে এগিয়ে ছিল ইউরোপীয়রা। এক মাঠে জার্মানি এক গোল দেয় কোস্টারিকাকে, অন্য মাঠে স্পেনও জাপানকে গোল দেয় একটি। ম্যাচের পারদ চড়তে থাকে ঠিক এর পরই। জার্মানির সাঁড়াশি আক্রমণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল শোধ করে দেয় কোস্টারিকা। মুহূর্তেই খবর আসে, ওদিকে স্পেনের ঘরে আগুন দেখা দিয়েছে! গোল শোধ করেছে জাপান। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মিনিট সাতেকের মধ্যে। স্পেন ১-২ জাপান। খবরটি শুনেই হয়তো ধাক্কা খেয়েছিল জার্মানি, কিছুক্ষণের জন্য আলগা হয়ে যায় তাদের ডিফেন্স। সেই সুযোগে আরও একটি গোল কোস্টারিকার। জার্মানি ১-২ কোস্টারিকা।
ম্যাচ শুরুর আগে হিসাব ছিল এমন- জার্মানিকে পরের রাউন্ডে যেতে হলে কোস্টারিকাকে হারাতে হবে এবং অন্যদিকে স্পেনের জিততে হবে। আর স্পেনের সামনে অঙ্কটা ছিল এমন- ড্র কিংবা হারলেও যাওয়া যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে কোস্টারিকাকে হারতে হবে জার্মানির কাছে।

এদিন নিজেদের সবটুকু নিংড়ে মাঠে নেমেছিল জার্মানি। অন্তত পাঁচ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে- একসময় এমন জটিল অঙ্কও মনে হয়েছিল কষে ফেলতে পারবে মুসিয়ালা, মুলার ও গ্যানাব্রিরা। কিন্তু ভাগ্য এদিন সত্যিই নিষ্ঠুর খেলা খেলেছে তাঁদের সঙ্গে। তা না হলে একটি নয়, দুটি নয়- গুনে গুনে চারটি বল গোলপোস্ট থেকে ফিরে আসে! এমনকি কোস্টারিকার গোলরক্ষকের সামনে ওয়ান টু ওয়ান পজিশনেও গোল মিস হয়। গোলমুখে ১১টি শট নিয়ে যাঁরা কিনা মাত্র চারটি গোল করেছেন আক্ষেপ তাঁদের পোড়াতেই পারে। পুরো ম্যাচে ৭৭৪টি পাসিং ছিল জার্মানদের, যেখানে কোস্টারিকা তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে মাত্র ৩৩৮ পাসে। জার্মানির এক জামাল মুসিয়ালাই যে ৯ বার ডিফেন্স ভেঙেছেন, কোস্টারিকা তাদের তিন ম্যাচে তার চেয়ে কম ছয়বার তা ভাঙতে পেরেছে। এদিন জার্মান কোচ মুসিয়ালাকে সেন্টারে রেখে মুলার আর সানেকে দিয়ে আক্রমণ সাজিয়ে ছিলেন। তাতে নিশ্চিতভাবেই জার্মান ফুটবলের যান্ত্রিক সৌন্দর্যটা ফুটে উঠেছিল। তবে ইতিহাসে তা লেখা থাকবে না, শুধু সবাই জানবে কাতার বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড পার করতে পারেনি জার্মানি।