মরুর ঝড় থেমে যাওয়ার পর লোকালয়ে যেমন ছাপ থেকে যায়, কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলাও তেমনি ছাপ রেখে দিচ্ছে। মেক্সিকো, বেলজিয়াম, ইকুয়েডর ও ডেনমার্কের মতো বড় দলের গ্রুপ পর্বে বিদায় সে অঘটনের ছাপ। সেনেগাল ও মরক্কোর নকআউট পর্বে উন্নীত হওয়া আফ্রিকার ফুটবলের নবজাগরণের গল্প গাথা হলে তিউনিসিয়ার কাছে ফ্রান্স বা জাপানের কাছে স্পেনের হারও তো অঘটন। এই ঘটন-অঘটন রয়েছে বলেই বিশ্বকাপ ফুটবল এত রোমাঞ্চকর। যে রোমাঞ্চের শেষ উপাখ্যান গতকাল স্পেনের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ার দল জাপানের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া। এ যেন ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের সূর্যোদয়।

জাপানের কাছে পরাজয়ে স্পেনের নকআউট পর্বে যেতে কোনো সমস্যা না হলেও সেরা হতে পারেনি। তাদের হারে কপাল পুড়েছে জার্মানির। কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে হারিয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো চারবারের বিশ্বকাপজয়ীদের। সেখানে শেষ ম্যাচে বাজিমাত করা জাপানের মাথায় উঠেছে গ্রুপসেরার মুকুট।

তিকিতাকার সুখ্যাতি নিয়ে স্পেন বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বড় জয় দিয়ে। তিকিতাকা থাকলেও জার্মানির বিপক্ষে সেরা খেলাটা দেখাতে পারেনি দ্বিতীয় ম্যাচে। জাপানের বিপক্ষে যেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দলের পারফরম্যান্সে। খেলার শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ বেলায় বরণ করতে হয়েছে পরাজয়। ১১ মিনিটে আলভারো মোরাতার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধান ধরেও রাখে। বিরতি থেকে ফিরে সেই দলই পাঁচ মিনিটে দুই গোল হজম করে। আর্জেন্টিনা আর সৌদি আরব ম্যাচের যেন পুনরাবৃত্তি দেখা। মেসিরাও তো বিরতির আগে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলেন। সেই তাঁরাই দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটে দুই গোল হজম করে পরাজিত। গতকাল সৌদিকে অনুসরণ করে ৪৮ ও ৫১ মিনিটে গোল করে জয়ের পথ সুগম করে জাপান। প্রথম গোলটি দোয়ানের আর দ্বিতীয় গোল তানাকার।