২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপ 'ই' থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠে গেছে এশিয়ার দেশ জাপান। এর আগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে তারা পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিল। শেষ ম্যাচে জার্মানি কোস্টারিকার বিপক্ষে জয় পেলেও টুর্নামেন্ট থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিদায় নিয়েছে। এর আগে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। আর জাপানের কাছে পরাজয় সত্ত্বেও রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছে স্পেনের।

তবে জার্মানি বিদায় নিতেই আলোচনায় এসেছে স্পেনের জালে জাপানের দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে মিতোমার ক্রস থেকে বল পেয়ে যান তানাকা। ফলে সহজেই গোল করে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তানাকা। গোলটি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও রেফারি ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে জাপানের গোলকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন। 

একটি ভিডিওতে দেখা যায় বল ক্রস করার আগেই পেরিয়ে গেছে বাইলাইন। সেই ক্রস থেকে গোল করে তানাকা। মাঠের রেফারি শুরুতে গোল বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষা করে তার সিদ্ধান্ত বদলে দেন। ভিএআরের মতে বলটির হালকা অংশ লাইন স্পর্শ করে আছে। যা বাতিল হলে পরের পর্বে যেত জার্মানিই। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলটির ছবিও ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি দেখলে যে কেউ মনে করতেই পারেন, বলটি লাইন পেরিয়ে গেছে। এমনটাই মত অধিকাংশ মানুষের। এমন বিতর্কিত গোল মেনে নিতে পারছেন না অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীরাই। এর জন্য ভিএআর'কেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তারা।

বিতর্কিত এই গোল নিয়ে আলোচনা চলছে জার্মানির গণমাধ্যমেও। তারা এটিকে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে জিওফ হার্স্টের বিতর্কিত গোলের সঙ্গে তুলনা করছে। ৫৬ বছর আগে আরেকটি বিতর্কিত গোলে পুড়তে হয়েছিল জার্মানদের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ সময় পর্যন্ত  ১-১ গোলে সমতায় ছিল জার্মানি। একদম শেষ মুহূর্তে জিওফ হার্স্টের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনে পড়ে, পরে তা ক্লিয়ার করেন জার্মান ডিফেন্ডার। রেফারি প্রথমে কর্নার দিলেও সহকারী রেফারির সঙ্গে আলাপ করে আসে গোলের সিদ্ধান্ত। ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। জার্মানরা এখনো বিশ্বাস করে বলটি গোললাইন অতিক্রম করেনি। এবার নিজেদের ম্যাচে না হলেও নিজেদের ভাগ্য জড়িত থাকায় জাপানের বিতর্কিত গোল নিয়ে নিজেদের দুর্ভাগা ভাবছে তারা।