অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে শুরুতে আউট হওয়া দোষের নয়। তবে সেট হয়ে আউট হওয়া  ‘পাপের’ সমান। ওই পাপ করেছেন বাংলাদেশ দলের টপ ও মিডল অর্ডারের ছয় ব্যাটার। যারা বেশ কিছু বলের মুখোমুখি হয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন চার মেরেছেন। কিন্তু ঢুকতে পারেননি ত্রিশ রানের ঘরে। অন্যদিকে মনিমুল হক ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন। 

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭৩.৫ ওভারে ২২৭ রানে অলআউট হয়েছে। জবাব দিতে নেমে শীত মাখা পড়ন্ত বিকাল কোন উইকেট না হারিয়ে পার করেছে ভারত। শুভমন গিল ও কেএল রাহুল ৮ ওভার ব্যাটিং করে ১৯ রান তুলেছেন। 

চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকাতেও টস জেতেন সাকিব আল হাসান। শুরুতে ব্যাটিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি তার। উইকেট কিছুটা ভালো হওয়ায় ব্যাটিংয়ে সাবলীল শুরু করেন বাংলাদেশ ওপেনার নাজমুল শান্ত-জাকির হোসেন। প্রথম ঘণ্টায় উইকেট না হারিয়ে তারা ৩৯ রান তোলে। প্রথম ফিরে যান দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা জাকির। আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান করেন ১৫ রান। পরের ওভারে দলীয় ওই একই রানে শান্ত ২৪ রান করে আউট হন। 

তিনে নামা মুমিনুল হক ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান। তাকে সঙ্গে দেওয়ার আভাস দিয়ে একে একে ফিরে যান সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা। টেস্ট অধিনায়ক সাকিব ১৬ রান করেন। দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটার মুশি পাঁচ চারে ২৬ রান করে ফিরে যান। এরপর লিটন দাস দুই চার ও এক ছক্কায় ২৬ বলে ২৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় সেশনে তিন উইকেট হারিয়ে মোমেন্টাম হারায় স্বাগতিকরা।      

শেষ সেশনে মুমিনুলের সঙ্গে মেহেদি মিরাজ সাবধানী ছিলেন। দিন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে খেলছিলেন তারা। কিন্তু মিরাজ ৫১ বল খেলে ১৫ রান করে আউট হন। মুমিনুলের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি দেন তিনি। দলের রান তখন ২১৩। এরপরই উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান (৬) ও তাসকিন (১) আউট হন। পরেই সাজঘরে ফেরেন শেষ ভরসা মুমিনুলও। মুহূর্তে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তিনি ১৫৭ বলে ১২ চার ও এক ছক্কায় ৮৪ রান করেন। দল থেকে বাদ পড়ে ফর্মে ফেরার আভাস দেন।  

বাংলাদেশের ইনিংস ধসিয়ে দিয়েছেন পেসার উমেশ যাদব ও অভিজ্ঞ স্পিনার রবিশচন্দন অশ্বিন। তারা দু’জনই চারটি করে উইকেট নিয়েছেন। উমেশ ১৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে দেন মাত্র ২৫ রান। এছাড়া বাঁহাতি পেসার জয়দেব উদানকাতরা নেন দুই উইকেট। দ্বিতীয় দিন ভারতীয় ব্যাটারদের আটকানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামবে বাংলাদেশ।