ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

টাকা ওড়ানোর নেশা তাদের

টাকা ওড়ানোর নেশা তাদের

ছবি- সংগৃহীত

জহির উদ্দিন মিশু

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৫:২০ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৫:২৮

সব নেশাই খারাপ নয়! আবার নেশা ছাড়া মানুষও চলতে পারে না। বলা যায়, একটি অপরটির পরিপূরক। তবে এটা ঠিক, যাদের নেশা ইতিবাচক তাদের নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, আবার যারা নেতিবাচক নেশায় মত্ত তাদের নিয়ে তার কয়েক গুণ সমালোচনা হয়। এই দুয়ের মাঝেও দারুণ ভিন্নতা। কেউ জুয়া খেলে টাকা ওড়ায়, কেউ আবার বৃদ্ধাশ্রমের মানুষদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটায়। 

অবশ্য খেলার জগতে নেশার সংজ্ঞাটা আরেকটু ব্যতিক্রম। এখানে কেউ অর্থ খসিয়ে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করে। আবার কেউ ভান্ডারের অর্থ ঢেলে জুয়ার আসরে উন্মাদ হয়ে নাচে। এই প্রতিবেদনে তাদের কাউকে নিয়ে কথা হবে না। স্রেফ ফুটবল মাঠের ১১ জনের পেছনের মূল কারিগর কোচদের নিয়েই হবে আলোচনা। যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবার এই সময়ের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলা। যিনি কেবলই কোচ নন, ডাগআউটের জাদুকরও বটে।

কী চমৎকার গার্দিওলার ম্যাচ রিডিং ও টেকনিক! তবে এই টেকনিক কিন্তু সবার সমান বোঝার কথাও না। কারণ মাঠে যে ১১ জন লড়াই করেন, তাদের বোঝার জ্ঞানটাও সমান নয়। সে জন্য কোচদের হতে হয় আরও কৌশলী। গার্দিওলা এই জায়গায় তাঁর মুনশিয়ানাটা দেখান। যেনতেন ছাত্র তিনি পড়ান না। যে ক্লাবেই যান, চেষ্টা করেন মেধাবীদের খুঁজে বের করার। সেটা বার্সাতে থাকার সময়ও হয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার পরও দেখা মিলেছে এবং বর্তমানে ম্যানসিটিতেও হচ্ছে। 

পুরো ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ছয়টি ক্লাবের কোচের চেয়ারে বসার সুযোগ হয়েছে গার্দিওলার। যেখানে আর দশজনের মতো অসংখ্য বেনামি এবং অখ্যাত খেলোয়াড় না কিনে তারকা, বিচক্ষণ আর দক্ষদের বানিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। এই যেমন সিটিতে তাঁর গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। কোচ হয়ে যখন ইত্তিহাদে পা রাখেন তিনি, তখনকার সময়টা ছিল খুবই কঠিন। এর পর ধীরে ধীরে খেলোয়াড় কিনে, তারকা হান্ট করে নিজের পায়ের তলার মাটিটা করেছেন শক্ত। গত মৌসুমে তো ম্যানসিটি ট্রেবল জয়ের মহাকীর্তিও গড়ে ফেলে।

সিটিকে এমন সব সাফল্যের বাগিদার করতে দুই হাত উজাড় করে টাকা খরচ করেছেন পেপ। যে কারণে এখন পর্যন্ত কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি খরুচেও এই স্প্যানিশবস। যেখানে সদ্য রোমা থেকে বরখাস্ত হওয়া হোসে মরিনহোও আছেন তালিকার দুইয়ে। যার কিনা কোচিং ক্যারিয়ারে ৯টি ক্লাবের কোচের আসনে বসার সুযোগ হয়েছিল। এই পর্তুগিজ সব মিলিয়ে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন কেবল খেলোয়াড় রিক্রুট করতেই।

আরও পড়ুন

×