জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে বিসিবির সঙ্গে কথা পাকাপাকি করে ফেলেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কান এ কোচকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতেও রাজি হয়েছিল বোর্ড। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় পৌঁছে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু এর মধ্যেই গতকাল হঠাৎ জানা গেল চন্ডিকা বিসিবির চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন না। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট একাডেমির কোচের চাকরিতেই থেকে যাচ্ছেন তিনি। 

বাংলাদেশের চাকরি নিশ্চিত জানার পর নিউ সাউথ ওয়েলস কর্তৃপক্ষ পদোন্নতিও দিয়েছে তাঁকে। তাই পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, ইউটার্ন নিয়ে হাথুরুসিংহে বিসিবিকে 'না' করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে হাথুরুসিংহের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালে সিডনিতে কয়েকজন পরিচালকের উপস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে বৈঠক করেন হাথুরুসিংহে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষে বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ চলে দু'পক্ষের মধ্যে। ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষে রাসেল ডমিঙ্গো প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করায় হাথুরুসিংহের নিয়োগ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। তাঁর চাওয়া অনুযায়ী তিন সংস্করণের প্রধান কোচ মনোনীত করা হয়। 

বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও মিডিয়াকে বলেছিলেন, প্রধান কোচ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চুক্তি সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে কাজ শুরু করবেন নতুন কোচ। কোচের নাম প্রকাশ না করে জালাল ইউনুস বলেছিলেন, 'কোচ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগেই যোগ দেবেন।' 'কেমন কোচ হলে ভালো'- জানতে চাওয়া হলে তাঁর মতামত ছিল- 'এমন একজন কোচ নিয়োগ দিতে চাই, যে কিনা উপমহাদেশের মানসিকতা বোঝেন। খেলোয়াড়দের চালিত করতে পারবেন।' বিসিবির হাতে থাকা সম্ভাব্য কোচের তালিকায় উপমহাদেশের মানসিকতা বোঝার মতো দু'জন কোচ ছিলেন- একজন শ্রীরাম, অন্যজন হাথুরুসিংহে। এ দু'জনের মধ্যে হাথুরুসিংহেই ছিলেন বিসিবির প্রথম পছন্দ।

বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বোর্ডের সঙ্গে সবকিছু চূড়ান্ত করে বর্তমান কর্মস্থল নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট একাডেমির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিয়েছেন হাথুরুসিংহে। প্রত্যাশামতো পদোন্নতি পেয়ে বিসিবিকে না করে দেন বলে মত তাঁর। হাথুরুসিংহে কবে কাজে যোগ দিতে পারেন- এ সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে একজন পরিচালক বলেন, 'কোচ নিয়ে তো কেলেঙ্কারি হয়ে গেছে। মনে হয়, হাথুরুসিংহেকে পাওয়া যাচ্ছে না।' 

বিষয়টি নিশ্চিত হতে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, 'আমাদের ধারণা, এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন হাথুরুসিংহে। বিসিবির চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পরও তাই চুক্তি করেননি। সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দরকষাকাষি করার ছলে হয়তো সময় নিচ্ছিলেন যাতে বর্তমান কর্মস্থলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারেন।' 

কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সম্ভবত হাথুরুসিংহে না করে দিয়েছেন।' হাথুরুসিংহের না করে দেওয়া বিসিবি কর্মকর্তাদের জন্য হতাশার। এ মুহূর্তে একজন ভালোমানের প্রধান কোচ খুঁজে পাওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। সে ক্ষেত্রে লাল এবং সাদা বলের কোচ আলাদা করে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবতে হতে পারে বোর্ডকে। হাথুরুসিংহে পিছু হটায় শ্রীধরনের কপাল খুলে যেতে পারে। সাদা বলের প্রধান কোচ করা হতে পারে এ ভারতীয়কে।