বেতন বাড়ানোর দরকষাকষিতে অবশেষে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রস্তাবেই রাজি হয়েছে বিসিবি। বুধবার থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের প্রধান কোচ। আগামী দুই বছরের জন্য লঙ্কান এই কোচের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বিসিবির। 

সোমবার সিলেটে টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বিসিবি সভাপতির লম্বা বৈঠক শেষে কোচ ইস্যুর সমাধান হয়। মঙ্গলবার সকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট একাডেমির থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা নেন হাথুরুসিংহে। বিসিবিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কোচের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে। 

এদিন সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাথুরুসিংহকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি। হাথুরুর সঙ্গে শিগগিরই দুজন সহকারীও নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান পাপন। 

অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী শ্রীলঙ্কান কোচ হাথুরুসিংহে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন। সে সময় মাসে ২৮ হাজার ইউএস ডলার বেতন পেতন। এবার আরও অনেক বেশি; অর্থাৎ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার (৪০ লাখ টাকা) বেতনে যোগ দিচ্ছেন বিসিবির চাকরিতে। 

যদিও চুক্তির শর্ত অনুযায়ীই বেতনের অঙ্ক নিয়ে মুখ খুলছেন না বিসিবির কেউ। চুক্তির শর্তে রয়েছে বছরে চারটি ছুটিও। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বিসিবিকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন লম্বা সময়। এর কারণ হলো তিনি চেয়েছিলেন সহকারী থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান কোচ হতে। 

এজন্য বিসিবির প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু দুদিন আগে হাথুরুকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কোন অস্ট্রেলিয়ানকেই প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেখানে গ্রেগ শিফার্ডকে অন্তর্বতী কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কেন আবার তাঁকে ফেরানো হয়েছে, তার ব্যাখা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ‘অনেক কারণে তাঁকে আমরা নিয়োগ দিয়েছি। আগের অভিজ্ঞতা একটা কারণ। আরেকটা হচ্ছে তাঁকে সবসময়ের জন্য কাজে পাওয়া। অন্যরা দিনের হিসাবে কাজ করেন, ১০০ দিন-২০০ দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কাজ করেন। এসব কিছুতে হাথুরু নেই।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব বুঝে নেবেন হাথুরুসিংহে। পাপন জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজে যোগ দিতে পারেন তিনি। চুক্তি হয়ে যাওয়ায় আগেও আসতে পারেন। ইংল্যান্ড সিরিজের কথা ভেবে বিপিএলের প্লে অফের ম্যাচ দেখতে পারেন স্টেডিয়ামে বসে।