বিরাট কোহলিকে আউট করে বাংলাদেশ পেসার এবাদত হোসেন ‘স্যালুট’ মেরেছিলেন। ইডেন গার্ডেনসে ওই ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ভারতীয় ব্যাটারের টেস্টে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার খরা শুরু হয়। একে একে ওই সেঞ্চুরি খরা ৩৯ মাসে পা দিয়েছে। দিনের হিসেবে ১২শ’ দিনের বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পাননি তিনি। 

এবার চার টেস্টের বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের শেষ ম্যাচে আহমেদাবাদে টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বিরাট। শুধু সেঞ্চুরি নয় ডাবল সেঞ্চুরির পথে ছিলেন তিনি। তবে কোহলি ডাবল মিস করলেও তার দল অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড় ঠেলে প্রথম ইনিংসে ৯১ রানের লিড নিয়েছিল। চতুর্থ দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে কোন উইকেট না হারিয়ে ৩ রান তোলায় ৮৮ রানে এগিয়ে আছে ভারত। 

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রায় দু’দিন ব্যাটিং করে প্রথম ইনিংসে ৪৮০ রান তুলেছিল। উসমান খাজা ৪২২ বল খেলে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়া ক্যামেরুন গ্রিন করেছিলেন ১১৪ রান। এর বাইরে স্টিথ স্মিথ ৩৮, নায়ান লায়ন ৩৬ ও টোড মারফি করেছিলেন ৬১ রান।

সেঞ্চুরি পাওয়া কোহলিকে সতীর্থদের অভিনন্দন। ছবি: এএফপি

জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু পায় ভারত। রোহিত শর্মা ফিরে যান ৩৪ রান করে। তিনে নামা পূজারা সেট হয়ে ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তরুণ ওপেনার শুভমন গিল ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। আর কোহলির ২৮তম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংস থেমেছে শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি ১৮৬ রানে আউট হওয়ায়। 

এই সময়ে কোহলি পাঁচে নামা রবিন্দ্র জাদেজা (২৮), ছয়ে নামা শ্রীকর ভারত (৪৪) ও সাতে নামা অক্ষর প্যাটেলের  (৭৯) সঙ্গে জুটি গড়েছেন। তবে লোয়ারের অশ্বিন (৭), উমেশ যাদব (শূন্য) একটু দৃঢ়তা দেখাতে পারলে ডাবলের দেখা পেতে পারতেন চারে ব্যাট করা ডানহাতি ব্যাটার কোহলি। মিডল অর্ডার ব্যাটার শ্রেয়াস আয়ার রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় ব্যাট করতে পারেননি। নাহলে ভারতের পরিস্থিতি আরও ভালো হতে পারতো।

এর আগে বল হাতে ভারতের রবিশচন্দন অশ্বিন প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছেন। শামি নিয়েছিলেন দুই উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্পিনার নাথান লায়ন ও টোড মারফি তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। মিশেল স্টার্ক ও কুনিহম্যান নিয়েছেন একটি করে উইকেট। বল হাতে ভারত শেষ দিন অসাধারণ কিছু করতে পারলে ফল পক্ষে যেতে পারে তাদের। তাছাড়া ড্র’ই আহমেদাবাদ টেস্টের নিয়তি। সেটা হলে সিরিজ জিতবে ভারত।