সেট হয়েও উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার প্রবণতা গেল না বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটারদের। উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসেও একই কাণ্ড করেছেন তাঁরা। জাকির হাসান, সাঈফ হাসান, নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন– এই চার তারকাই প্রথম ইনিংসের মতো গতকালও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাদমান ইসলাম, শাহাদাত হোসেন দীপু ও ইরফান শুক্কুর। তিনজনের প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান তুলে ১৬৬ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

প্রথম ইনিংসেও ৭৩ রান করেছিলেন শাহাদাত হোসেন দীপু। গতকাল ৫০ রান করেন তিনি। প্রথম দিন হাতে চোট পাওয়া ওপেনার সাদমান গতকাল ৭৪ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন। আর দিনের শেষ দিকে ইরফান শুক্কুর ৮৫ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর জন্যই লিডটা আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তিনি দ্রুত আউট হয়ে গেলে এ ম্যাচেও হারের মুখ দেখতে হবে স্বাগতিকদের।

তবে হারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হলো ‘এ’ দলের তারকা ব্যাটারদের রান না পাওয়ায়। ক’দিন পরই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ অথচ জাতীয় দলের ব্যাকআপ হিসেবে যাঁদের ভাবা হচ্ছে, তাঁদের কেউই এ সিরিজে তেমন একটা ভালো করতে পারলেন না। এ কারণেই গতকাল চিন্তিত শোনাল নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কণ্ঠ, “আসলে ‘এ’ দলের ব্যাটাররা রান পাচ্ছে না। এটা অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয়। সিলেটের উইকেটে ঘাস থাকলেও তেমন একটা মুভমেন্ট নেই। মোটামুটি ব্যাটিং উইকেটই বলা চলে। তার পরও রান না পাওয়াটা অবশ্যই ব্যর্থতা।” ক্যারিবীয় পেসারদের কৃতিত্বও দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওপেন করেছিলেন তামিম-শান্ত ও দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম-লিটন। এর আগের সিরিজে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টেই ওপেন করেছিলেন জাকির ও শান্ত। তামিম ইকবাল ফিট থাকায় আফগানদের বিপক্ষে হয়তো তিনি ও শান্ত ওপেন করবেন। তবে ব্যাকআপ হিসেবে নির্বাচকদের চিন্তায় এগিয়ে আছেন জাকির হাসান ও নাঈম শেখ। উইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুইটি চার দিনের ম্যাচের চার ইনিংসে জাকিরের সর্বোচ্চ রান ৩০। নির্বাচকরা বেশি হতাশ নাঈমকে নিয়ে। সদ্য সমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ৯৩২ রান করা নাঈম ক্যারিবীয় পেসারদের বিপক্ষে মোটেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। আর তিনি সিনক্লেয়ারের অফস্পিনে দুই ইনিংসেই বোল্ড হয়েছেন। লিগে ৬৩০ রান করে ষষ্ঠ স্থানে থাকা সাঈফ হাসান প্রথম ম্যাচে ৯৫ রান করলেও সেটায় টেস্ট মেজাজ ছিল না। আফিফের মাঝেও লম্বা ইনিংস খেলার ইচ্ছা ও ধৈর্য দেখা যায়নি।