‘এ’ দলের সিরিজ শেষ হওয়ায় মাহমুদুল হাসান জয়দের যোগ দেওয়ার কথা এইচপি ক্যাম্পে। জাতীয় দলের টেস্ট ম্যাচ থাকায় আপাতত তাঁকে হয়তো এইচপিতে যোগ দিতে হবে না। আজ তাঁকে রিপোর্ট করতে হতে পারে জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ক্যাম্পে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ১১৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে টেস্ট দলে থাকা একপ্রকার নিশ্চিত করে নিয়েছেন তিনি। ওপেনিংয়ে জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত আরেক ওপেনার জাকির হাসানের সঙ্গে। ডানহাতি এ ব্যাটার শেষ টেস্ট খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মাঝে ভালো করতে না পারায় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এই ফাঁকে ওপেনিংয়ে জায়গা করে নেন জাকির। চোটে না পড়লে খেলতেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও।

বাংলাদেশ দলকে টেস্টের ওপেনিং জুটি নিয়ে ভুগতে হয়েছে লম্বা সময়। জুনায়েদ সিদ্দিকী থেকে শুরু করে ইমরুল কায়েসের কেউই তামিম ইকবালের সঙ্গে টিকে থাকতে পারেননি। জাকির, জয়, সাইফ, সাদমানে পূরণ হতে পারে সে শূন্যতা। বিশেষ করে জাকির-জয়ের কারণে ওপেনিং জুটিতে তামিমের সঙ্গে একজনকে বেছে নিতে গিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

জাকির অভিষেক সিরিজে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তাঁর পরিণত ব্যাটিং দেখে ভালো লেগেছে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। জয়কেও ফেলে দেননি অধিনায়ক। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে জাকিরের চেয়ে জয়কেই এগিয়ে রাখতে হবে। উইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলে ১৪৫ রান করেন ২২ বছর বয়সী এ ব্যাটার। সেখানে জাকির তিন ম্যাচ খেলে করেন ১৩৩ রান। শেষ ম্যাচে ৪৩ রান তাঁর সর্বোচ্চ।

তামিম, জয়, জাকির থাকলে নাজমুল হোসেন শান্তকে তিন নম্বরে খেলাবেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এই জয়গায় ভালোও করেন তিনি। সেক্ষেত্রে ছন্দহীন মুমিনুল হকের দুশ্চিন্তা বেড়ে যেতে পারে মিডলঅর্ডারে জায়গা পাওয়া নিয়ে। কারণ মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজের দখলে থাকবে বাকি তিনটি জায়গা।

একাদশের বাকি চারজন বোলার। তবে এ মুহূর্তে জাতীয় দল নির্বাচকদের ভাবনায় রয়েছে স্কোয়াড নির্বাচন। ‘এ’ দলের শেষ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে দারুণ বোলিং করেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংস দুই উইকেট শিকার তাঁর। চোটের কারণে সাকিব না থাকায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে নাসুমকেও বিবেচনা করা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত হবে কোচ হাথুরুসিংহের উপস্থিতিতে। আজ থেকে তাঁর অধীনেই টেস্টের মূল ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। শুক্রবার ‘এ’ দলের সিরিজ শেষ হওয়ায় জাতীয় দলের অনুশীলনে থাকতে পারছেন মুমিনুল হকরা। কারণ সিলেটে উইন্ডিজের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেলেছেন টেস্ট দলের সাতজন। তাই নিক পোথাসের অধীনে ২৯ মে থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পে ছিলেন না টেস্ট দলের অর্ধেক ক্রিকেটার।

/এমএইচ/