ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

কাছে থেকেও যেন দূরে রোমান-দিয়া

কাছে থেকেও যেন দূরে রোমান-দিয়া

Advertisement
Advertisement

সাখাওয়াত হোসেন জয় , হ্যাংঝু (চীন) থেকে

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:২৩

শর্তে নাকি লেখা আছে মিডিয়ায় কথা বলতে মানা। তাই তো গতকাল হ্যাংঝুর ফুইয়ং ইনহু স্পোর্টস সেন্টারে নিজেকে আড়ালে-আবডালে রাখার চেষ্টা রোমান সানার। জীবনসঙ্গী দিয়া সিদ্দিকী যখন এক পর্যায়ে বলে ওঠেন ‘তিনি আমার হাফ’, পাশে দাঁড়িয়েও আবার দূরে সরে গেলেন রোমান! কিছু বলতে হবে ভেবেই নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় দূরে এই সরে যাওয়া। একটু পর হাত দুটি এক করে মিক্সড জোনের পাশ দিয়ে হেঁটে চলে যান বাংলাদেশের আরচারির দুই তারকা। বিয়ের পর এটা যে তাদের প্রথম বিদেশ সফর। অন্যরকম ‘হানিমুন’ও বলা যায়।

আরচারিতে পরিচয়। ভালো লাগা থেকে হৃদয়ের আদান-প্রদান। মাঝে রাগ-অভিমানের গল্পে দু’দিকে পথচলা। দু’জনের ভুল বোঝাবুঝির সেই ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে চলে যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। আরচারি থেকে নিষিদ্ধ হন রোমান সানা। আন্তর্জাতিক আরচারি ফেডারেশনের সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবসান হয় ভুল বোঝাবুঝির। জীবনসঙ্গী হিসেবে পথচলা রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকীর। নতুন জীবনে পা পড়ার পর কেটে গেছে তিন মাস। এর মাঝে রোমানকে ছাড়া দিয়া জার্মানিতে গিয়ে খেলেছিলেন ওয়ার্ল্ড আরচারি। এশিয়ান গেমসে এবার সঙ্গী হিসেবে স্বামী থাকলেও নিশানাভেদের লড়াইয়ে দু’জনের পথ দু’দিকে। র‍্যাঙ্কিং রাউন্ডে রিকার্ভ বিভাগে রোমান যে স্কোর করেছিলেন, তাতে পেছনে পড়ে যান হাকিম আহমেদ রুবেল ও মোহাম্মদ সাগর হোসেনের। তাই এবারের এশিয়াডে এ তীরন্দাজ ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে ছিটকে পড়েন। শুধু পুরুষ দলগত ইভেন্টেই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। কম স্কোরিংয়ের কারণে মিশ্র দ্বৈতে দিয়ার সঙ্গে জুটি বাঁধা হয়নি তাঁর। তাতে বলা যায়, কাছে থেকেও যেন দূরে রোমান-দিয়া!

দুই বছর আগে সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব আরচারিতে দু’জন মিলে দেশকে এনে দিয়েছিলেন রুপার পদক। স্বামী থাকতেও নিয়মের কারণে এবারের এশিয়াডে মিশ্র দ্বৈতে দিয়া জুটি বেঁধেছেন সাগরের সঙ্গে। ভালোবেসে এক ঘরে থাকলেও আরচারির মাঠে আলাদা হওয়ায় মন খারাপ দিয়ার, ‘এতদিন রোমান সানা দেশকে দিয়েছেন। এখন হয়তো রুবেল, সাগর বা রামকৃঞ্চরা দেবেন। আরেকটা যদি বলতে হয় নিজের জন্য নয়, দেশের কথাই ভাবা উচিত। মনে করব, এটা যে কেউই হোক আমার জন্য সবাই সমান। তবে হ্যাঁ, আমর হাজবেন্ডকে অবশ্যই মিস করছি। এটা তাঁর ক্ষেত্রেও হয়, আমার ক্ষেত্রেও হয়। এটা ব্যক্তিগত ইভেন্ট তো। তাই যে কোনো কিছুই হতে পারে।’ দিয়ার এমন মন্তব্যের পর পাশ থেকে আত্মবিশ্বাসের সুরে রোমান বলে ওঠেন, ‘এবার হয়নি তো কী হয়েছে, ইনশাআল্লাহ সামনে হবে।’

১১ মাস পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নামা রোমানের তীর শুরুতে ঠিক আগের মতো চলেনি। অফিসিয়ালি না বললেও আলাপচারিতায় যেটুকু বলেছেন, তাতে মনে হয়েছে নার্ভাসনেস কাজ করছে। ‘আমি আমার নিজের মারটা দিতে পারিনি। ১০ মাস পর ফিরেছি তো। প্রথম শটে একটু নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। শুরুর দিকে খারাপ করাতেই সেরা দুই থেকে ছিটকে পড়েছি।’ দিয়ার সঙ্গে জুটি বাঁধা হয়নি এবার। তবে ভালো-মন্দ; দুটিতেই স্ত্রীকে দারুণ সঙ্গ দেন রোমান। স্বামী পাশে থাকায় এবারের বিদেশ সফরটি দিয়ার কাছে বিশেষ কিছু, ‘অন্যান্য গেমসের তুলনায় এবারের গেমসটি আমার কাছে বিশেষ কিছু। আগেও সব সময় তাঁর সঙ্গেই আসতাম। তখন আমার স্বামী ছিলেন না; কিন্তু এখন তো আমার জীবনের সঙ্গী তিনি। তাই তিনি থাকাতে ভেতর থেকে এখন অন্যরকম একটা স্পিরিট কাজ করে। নিজের মোটিভেশনের জায়গা অনেক শক্তিশালী হয়, একজন আমার সঙ্গে আছেন। আগে দূরে থেকে বোঝাতেন, এখন আমাকে কাছে এসে বোঝান।’

দূরে থেকে কাছে আসার গল্প তাহলে এমনই!

আরও পড়ুন