মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা গুলশান-২ নম্বরে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযানে ঢোকার পরপরই বিকল্প পথ দিয়ে পালিয়ে যান তার ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাই। অভিযানের দু'দিন পার হলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিএনসি। 

তবে ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, ওমর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করতে কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। তার বাসাসহ সম্ভাব্য স্থানগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি মাদকদ্রব্য আইনে করা একটি মামলার আসামি।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার বিকেলে ডিএনসির ঢাকা মহানগর উপ-অঞ্চলের একাধিক টিম গুলশান-২ নম্বরের ৫৭ নম্বর রোডে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাড়ির কেয়ারটেকার নবীন মণ্ডল ও পারভেজকে। অভিযান শুরুর সময় ওমর মোহাম্মদ ১১/এ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন। টের পেয়ে ফ্ল্যাটের ভেতরের বিকল্প পথ দিয়ে তিনি পালিয়ে যান।

এ অভিযানে মোট ৩৮২ বোতল বিদেশি মদ, সিসা, সিসার উপকরণ, গাঁজা ও ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ডিএনসি আজিজ মোহাম্মদের ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি এবং দুই কেয়ারটেকার নবীন ও পারভেজের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করে। দুটি মামলার একটিতেও আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে আসামি করা হয়নি। গ্রেপ্তার নবীন ও পারভেজকে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

ডিএনসির ঢাকা মহানগর উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা সমকালকে বলেন, আজকালের মধ্যে নবীন ও পারভেজকে রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। পলাতক ওমর মোহাম্মদের অবস্থান নিশ্চিত হতে এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দারা কাজ করছে।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই ব্যবসায়ী হলেও চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেই বেশি পরিচিত। ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন তিনি বিদেশে পালিয়ে আছেন।