বাজেট ঘোষণার পর টানা দ্বিতীয় দিনে শেয়ারবাজারে দরপতন রয়েছে। রোববারের মত সোমবারও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে দর হারিয়েছে লেনদেন হওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ার। এতে সূচকেরও বড় পতন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৭৫ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার ১ শতাংশের বেশি।

সোমবার সূচকের পতনের বড় কারণ একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেড এবং একক খাত হিসেবে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতন।

অর্থমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার যে বাজেট দিয়েছেন, তাতে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক-বীমার ক্ষেত্রে এ সুবিধা না দেওয়ায় হতাশ বিনিয়োগকারীরা। তারই প্রভাব পড়েছে শেয়ারদরে।

তবে হতাশা সত্ত্বেও রোববারের শেয়ারের দরপতন ছিল অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মাত্র ১৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০৩৮ পয়েন্টে নেমেছিল। বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমার পরও বেক্সিমকো লিমিটেডসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকে অনেকগুলো পয়েন্ট যোগ করায় রোববার সূচকের বড় পতন হয়নি। কিন্তু সোমবার ওই শেয়ারগুলো দর হারালে সূচকের বড় পতন আর ঠেকিয়ে রাখা যায়নি।

সোমবার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুতেও বেশিরভাগ শেয়ার দর হারায়। তার পরও প্রথম তিন ঘণ্টার লেনদেনে সূচকের পতন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। সূচক নিম্নমুখী হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন।

কিন্তু দুপুর ১টার পর বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনই পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতনে সূচকের বড় পতন শুরু হয়। রোববার সাড়ে ৯৬ টাকা দর থেকে শেয়ারটির দর আরো বেড়ে সোমবার লেনদেনের মাঝে ১০১ টাকায় ওঠে। এ পর্যায়ে সূচক রোববারের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৬১ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

এর পর ক্রমে শেয়ারটির দর কমতে থাকলে সূচকেরও পতন শুরু হয়। দুপুর ১টার পর দরপতনের ব্যাপকতা বাড়ে। ১টা ৩৯ মিনিটে সূচকটি রোববারের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৫৪ পয়েন্টে নামে। এ পর্যায়ে বেক্সিমকোর দর দিনের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ১২ টাকা হারিয়ে ৮৯ টাকার নিচে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও কিছু ব্যাংকের শেয়ারের দরপতনের হার কমে এলে সূচকের পতনও কমেছে। বেক্সিমকোর শেয়ার সর্বশেষ ৯১ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

সোমবার সূচকের পতনের কারণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনে ডিএসই প্রায় ১৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। শেয়ারটি রোববারের তুলনায় সাড়ে ৫ টাকা দর হারিয়ে ৯১ টাকায় নেমেছে।

সূচকের পতনে এর পরের কারণ ছিল এক্সিম ব্যাংক (সূচক কমিয়েছে ৫.৬৯ পয়েন্ট), বেক্সিমকো ফার্মা (৪.৪২ পয়েন্ট), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (৪.০৮ পয়েন্ট), ব্র্যাক ব্যাংক (২.৩৫ পয়েন্ট), বিকন ফার্মা (২.৩৫ পয়েন্ট), সাউথইস্ট ব্যাংক (২.২৫ পয়েন্ট), আইসিবি (২.১৯ পয়েন্ট), লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট (২.০৩ পয়েন্ট)।

খাতওয়ারি হিসেবে ব্যাংকের কারণে সূচক পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ব্যাংক খাতের কারণে সোমবার ডিএসই সূচক হারিয়েছে ৩০ পয়েন্ট। বিবিধ খাতের কারণে ১৪ পয়েন্ট। বীমা খাতের কারণে ৪ পয়েন্ট। প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং সিমেন্ট খাতের কারণে ৩ থেকে পৌনে ৪ পয়েন্ট করে সূচক কমেছে।

শেষ পর্যন্ত ১০৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৩৬ শেয়ার ও ফান্ড। অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর।

দুপুর আড়াইটা পর্যন্তদিনের স্বাভাবিক সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেন সময়কালে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার। ক্লোজিং সেশনের আরো ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন মিলে দিনের মোট লেনদেন ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৮৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অবশ্য এ লেনদেন রোববারের তুলনায় ৫৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা কম।

সোমবার খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক, বীমা, প্রকৌশল, সিমেন্ট, সিরামিক, বস্ত্র, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।

যেমন ব্যাংক খাতের ২ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৬টি দর হারিয়েছে। এ খাতের সার্বিক দরপতনের হার ১.৯৪%। বীমার ১১ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৯টির। এ খাতের সার্বিক দরপতনের হার ০.৮৮%।

প্রকৌশল খাতের ১১ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৩৬টির। বস্ত্র খাতের ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৮টির। শুধু তথ্য ও প্রযুক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দর হারানো শেয়ার সংখ্যার তুলনায় দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১ শেয়ারের মধ্যে ৮টির দর বেড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ৯ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৫টির। বাকি ৮টির দর অপরিবর্তিত।

একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকোর সর্বাধিক লেনদেন হয়েছে ২৪৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৮২ কোটি টাকা।

একক খাত হিসেবে বীমায় সর্বাধিক ৪২৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যদিও রোববারের তুলনায় কম। রোববারের তুলনায় সোমবার ব্যাংক খাতের সামান্য লেনদেন বেড়েছে।

মন্তব্য করুন