টানা চারদিনের অস্থিরতার পর বুধবার সার্বিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার। সকাল ১০টায় দিনের লেনদেনের শুরু থেকে প্রতিটি খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

শেয়ারদর বাড়তে থাকায় গতি এসেছে লেনদেনে। সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেনের মধ্যে প্রথম তিন ঘণ্টাতেই ডিএসইতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

দুপুর ১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২৫২ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৮৯ শেয়ার ও ফান্ড এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দর।

বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচক বৃদ্ধির হার ১.০৫ শতাংশ।

সূচকের এ বৃদ্ধিতে একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বেক্সিমকো লিমিটেডের। শেয়ারটির দর গতকালের তুলনায় ৩ টাকা ৮০ পয়সা বাড়াতে ডিএসইএক্স সূচকে যোগ হয়েছে প্রায় ৯ পয়েন্ট। সূচক বৃদ্ধিতে এর পরের ভূমিকা ছিল বিএসআরএম লিমিটেড, গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। 

একক খাত হিসেবে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকের বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধির দিনের লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। কিন্তু লেনদেন সময় গড়াতে অন্য শেয়ারের সঙ্গে এ খাতের শেয়ারও দরবৃদ্ধির কাতারে যোগ দেয়।

দুপুর ১টায় বীমা খাতের ৫০ কোম্পানির মধ্যে ৩১টিকে দর বেড়ে এবং ১৭টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। 

একই সময়ে ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির মধ্যে ১১টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৪টি। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২২ শেয়ারের মধ্যে ১৮টির দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

প্রকৌশল খাতের ৪২ কোম্পানির মধ্যে ৩১টির দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৮টির।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১২টির দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৮টির।

বস্ত্র খাতের কোম্পানির ৫৬ মধ্যে ৭টির দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৪৩টির।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ৬টির দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৬টির।

সিমেন্ট খাতের ৭ কোম্পানির সবগুলো দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১ হাজার ৯৩২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। 

এ সময় পর্যন্ত একক খাত হিসেবে বীমায় সর্বাধিক ৪৬৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোট লেনদেনের ২৪.৫০ শতাংশ। গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ আজ এ খাতে লেনদেন তুলনামূলক কমেছে।

গতকালে তুলনায় আজ লেনদেনের হার বেড়েছে প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতে। দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রকৌশল খাতের লেনদেন হয়েছে ২৪১ কোটি টাকার শেয়ার, যা মোটের ১২.৮০ শতাংশ। গতকালের পুরো লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ৭.৩৬ শতাংশ।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন হয়েছে ১০৫ কোটি টাকার শেয়ার, যা মোটের ৫.৫৮ শতাংশ। গতকালের পুরো লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ৪.২৫ শতাংশ।

একই সময় পর্যন্ত বস্ত্র খাতের লেনদেন হয়েছে ২৪২ কোটি টাকার শেয়ার, যা মোটের ১২.৮২ শতাংশ। গতকালের পুরো লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ১০.৯৭ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো বরাবরের মত লেনদেনের শীর্ষে। দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে এ কোম্পানির ১১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। 

এ সময় ৯ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়েছিল মোট ১৯ শেয়ার।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছিল ভিএফএস থ্রেড, পপুলার লাইফ, ইনডেক্স এগ্রো, ইসলামিক ফাইন্যান্স, জেনেক্স ইনফোসিস, ন্যাশনাল পলিমার, মীর আকতার লিমিটেড, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সাফকো স্পিনিং, ফার কেমিক্যাল, রিং শাইন, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, পূরবী জেনারেল, নূরানী ডাইং, খুলনা প্রিন্টিং ও বিএসআরএম লিমিটেড।

বিপরীতে ৫ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইমাম বাটন এবং ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স।

৫ শতাংশের ওপর দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল আরো ৩৪ কোম্পানির শেয়ার।

বিপরীতে ৬ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল জিবিবি পাওয়ার। শেয়ারটি সর্বশেষ ৩১ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

মন্তব্য করুন