দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একদিনেই দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর বা গত সাড়ে ১০ বছরের সর্বোচ্চ এবং ডিএসইর সর্বকালের লেনদেনের ১২তম সর্বোচ্চ।

গত ৩ জুলাই সংসদে জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগের দিন থেকে টানা ছয় দিনের প্রতিদিনই দুই হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৬ জুন দুই হাজার ৬৬৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। বুধবারের লেনদেন ওই দিনের তুলনায় ৩১ কোটি টাকা বেশি।

ডিএসইর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট ৮২ কার্যদিবসে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ কার্যদিবস ছিল ২০১০ সালে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবস লেনদেনের এ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

একদিনের সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর। ওইদিনের পর থেকেই শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল।

এদিকে লেনদেনে গত এক দশকের নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর দিনে দর বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের।

শেষ পর্যন্ত ২০৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর। যদিও লেনদেনের শেষের তুলনায় শুরুর দিকে এ চিত্রটা ছিল আরো ইতিবাচক।

এমনকি সূচকের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একই চিত্র ধরা পড়েছে। মূলধনী কোম্পানির খাত ব্যাংকসহ অন্য সব বড় শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় আজ দিনের লেনদেনের প্রায় সোয়া ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ১২ মিনিটে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০৯৬ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল, যা ছিল গতকালের তুলনায় ৭৩ পয়েন্ট বেশি।

কিন্তু দিনের শেষে সূচকটি আজকের মত থিতু হয়েছে ৬০৫৫ পয়েন্টে, যা গতকালের তুলনায় প্রায় ৩২ পয়েন্ট ওপরে। তবে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট নিচে।

লেনদেনের শেষাংশে সূচক কমার কারণ ছিল ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমে যাওয়া।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বড় খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাতের দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারে সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি।

প্রকৌশল খাতের লেনদেন হওয়া ৪২ শেয়ারের মধ্যে ২৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩টির। বস্ত্র খাতের ৫৬ কোম্পানির মধ্যে ৩৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০টির। বাকি শেয়ারগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল।

একই চিত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। এ খাতের ১৬ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ১টির।


বিপরীতে ব্যাংক খাতের ৩১ শেয়ারের মধ্যে ১৮টির দর কমেছে, বেড়েছে ৬টির। লেনদেনের প্রথম অর্ধে এ চিত্র ছিল বিপরীত।

অন্য খাতগুলোর মধ্যে বীমার ২১ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৮টির।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৩টি দর হারিয়েছে, বেড়েছে ১৭টির।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ৮টির দর কমেছে, দর বেড়েছে ১৪টির।

অপেক্ষাকৃত কম শেয়ারের খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১ শেয়ারের মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে। সেবা ও নির্মাণ খাতের ৪ কোম্পানির সবগুলোর দর বেড়েছে। অন্য ছোট খাতগুলোতে ছিল মিশ্রধারা। তবে বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে।

গতকালে তুলনায় আজ লেনদেনের হার বেড়েছে প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে।

তবে একক খাত হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বীমা। আজ এ খাতের ৫০ কোম্পানির ৭১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গতকাল ছিল ৬২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তবে মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান গতকালের ৩০.১৯ শতাংশ থেকে কমে ২৬.৩১ শতাংশে নেমেছে।

খাতওয়ারি লেনদেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল বস্ত্রখাতের। এ খাতের ৫৬ কোম্পানির ৩৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট ১২.৪৬ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো বরাবরের মত লেনদেনের শীর্ষে। আজ এ কোম্পানির ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের। কেনাবেচা হয়েছে ৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার।

আজ ৯ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়েছে মোট ১৯ শেয়ারের।

শেয়ারগুলো হলো (দরবৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের ক্রম অনুযায়ী)- ভিএফএস থ্রেড, পপুলার লাইফ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইনডেপ এগ্রো, ইসলামিক ফাইন্যান্স, ডেফোডিল কম্পিউটার্স, জেনেপ ইনফোসিস, ন্যাশনাল পলিমার, রানার অটোমোবাইলস, এস্‌ক্যোয়ার নিট, ফার কেমিক্যাল, রিং শাইন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরচুন সুজ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, নূরানী ডাইং, খুলনা প্রিন্টিং, গোল্ডেন সন এবং সাফকো স্পিনিং।


মন্তব্য করুন