গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের দায়ে বাঙ্কো সিকিউরিটিজ নামের আরো একটি ব্রোকারেজ হাউসের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই)। ব্রোকারেজ হাউসটির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ৬৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে। গত এক বছরের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

এর আগে গত বছরের ১৫ জুন গ্রাহকদের অন্তত ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছিল ক্রেষ্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদ উল্লাহ। পরে ওই ব্রোকারেজ হাউসটি বন্ধ করে মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল স্টক একচেঞ্জ। ওই মামলায় নোয়াখালী থেকে শহিদ উল্লাহ স্ত্রীসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। এখনও তারা কারাগারে।

বাঙ্কো সিকিউরিটিজ দেশের শেয়ারবাজারে একই সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্লেসমেন্ট ব্যবসার করার অভিযোগও রয়েছে।

গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের নতুন এই ঘটনার বিষয়ে ডিএসইর সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, গত ৭ জুন ব্রোকারেজ হাউসটিতে বিশেষ পরিদর্শনে গিয়ে এই ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের সমন্বিত হিসেবে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ১৩৩ টাকার ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর পরই ব্রোকারেজ হাউসটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৬ মে এবং ৬ জুন গ্রাহকদের হয়ে শেয়ার কেনার বিপরীতে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ডিএসই পক্ষ থেকে বিশেষ পরিদর্শন দল পাঠানো হয়েছিল ব্রোকারেজ হাউসটিতে।

কোনো ব্রোকারেজ হাউসের শেয়ার কেনার জন্য নিজের বিও অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা রাখেন বা শেয়ার বিক্রির পর যে টাকা পান, তা সংশ্নিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসেবে জমা রাখতে হয়।

সংশ্নিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের সব গ্রাহকের টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রাখতে হয় বলে এ ধরনের ব্যাংক হিসাবকে কনস্যুলেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট বা গ্রাহকদের সমন্বিত ব্যাংক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

গ্রাহকদের এ অর্থের ওপর ব্রোকারেজ হাউসের কোনো অধিকার নেই। এ অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজে বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটেয়ারি সমকালকে বলেন, ঘটনা জানার পরই দ্রুততম সময়ে ব্রোকারেজ হাউসটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এর পর গত সোমবার মতিঝিল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য ইমিগ্রেশনকেও (অভিবাসন অধিদপ্তর) অনুরোধ করা হয়েছে।

ডিএসই অভিযোগপত্রে লিখেছে, বাঙ্কো সিকিউরিজ ও তার মালিক পক্ষ বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে এবং তা সমন্বয় না করে দেশ থেকে পালানোর আশঙ্কা আছে। প্রতিষ্ঠানটি এভাবে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে শেয়ারবাজারের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন করেছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

মামলায় ঢাকার মতিঝিলস্থ ইস্পাহানি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ব্রোকারেজ হাউসটির চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত, পরিচালক মো. শফিউল আজম, ওয়ালিউল হাসান চৌধুরী, নুরুল ঈশাণ সাদাত, এ. মুনিম চৌধুরী, জামিল আহমেদ চৌধুরীসহ ব্রোকারেজ হাউসটির কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিবাদি করেছে ডিএসই।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার ব্রোকারেজ হাউসটির চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ দায়েরের পর মতিঝিল থানা থেকে নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। দুদকই এ মামলার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ঘটনায়ও একইভাবে মামলা হয়েছিল বলে জানান তারা।

বিষয় : অর্থ আত্মসাৎ বাঙ্কো সিকিউরিটিজ হাউস শেয়ারবাজার

মন্তব্য করুন