মাত্র ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া কেমিক্যাল খাতের কোম্পানির সালভো কেমিক্যালের শেয়ারদর এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে। গত ১৬ মে ডিএসইতে শেয়ারটি ১৩ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। বুধবার শেয়ারটি ২৭ টাকা ৮০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। 

শেয়ারটির এ দর আজকের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর। অর্থাৎ আজ এর থেকে বেশি দরে শেয়ারটি কেনাবেচার সুযোগ নেই। বেলা ১টায় এ কোম্পানির ৪ লাখ শেয়ারের ক্রয়ের অর্ডারের বিপরীতে বিক্রেতা শূন্য অবস্থা বিরাজ করতে দেখা গেছে।

যদিও এ সময় পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রায় ৩৩ লাখ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে সর্বনিম্ন ২৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৭ টাকা ৮০ পয়সা দরে।

এখন থেকে এক বছর আগে শেয়ারটি যখন ১০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছিল, ফ্লোর প্রাইসের সুরক্ষা থাকার পরও দিনের পর দিন শেয়ারটির ক্রেতা ছিল না।

বছরের ব্যবধানে শেয়ারটির দর প্রায় তিনগুণে উন্নীত হওয়ার পর পরিস্থিতি উল্টো। এখন শেয়ারের ক্রেতা অনেক, কিন্তু বিক্রেতা সংকট। কারণ যারাই শেয়ারটি কিনছেন, তারা চাচ্ছেন আরো বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করতে।

এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর দ্বিগুণ হওয়ার বা বছর ব্যবধানে তিনগুণ হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ কী আছে- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, কোম্পানিটির দেওয়ার অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩১ মার্চ ২০২১ সমাপ্ত চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে এর শেয়ার প্রতি আয় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৪৮ পয়সা হয়েছে। হিসাব বছরের বাকি তিন মাসে কোম্পানিটির ইপিএস এর সমপরিমাণও হয়, তবে ইপিএস ১ টাকা হবে না। ফলে কোম্পানিটির ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে কি-না, সন্দেহ রয়েছে।

গত বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ১ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

গত এপ্রিল শেষে সালভো কেমিক্যালের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার ধারণের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ২২.৪১ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেন। 

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নিয়মানুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালভো কেমিক্যালের কোম্পানি সচিব লিটন কুমার রায় সমকালকে বলেন, ২০১১ সালে যখন কোম্পানি আইপিও প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হয়, তখন এ নির্দেশনা ছিল না। তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে যে পরিমাণ শেয়ার ছিল, এখনও সে পরিমাণ শেয়ারই আছে। কোনো উদ্যোক্তা-পরিচালক এখন পর্যন্ত কোনো শেয়ার বিক্রি করেননি। বরং কেউ কেউ কিছুটা শেয়ার কিনেছেন। 

বর্তমানে কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ দর বৃদ্ধির কারণ জানা নেই। কোম্পানির যত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে, তা ইতোমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানির মালিকপক্ষের কোনো সংযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএসইসির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শেয়ার নেই, সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমিশন অফিসে ডেকে কথা বলা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে গত ৮ জুন সালভো কেমিক্যাল সংশ্লিষ্টদের কমিশন কার্যালয়ে ডেকে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা কমিশনের এ নির্দেশনা পরিপালনে আরো কিছুটা সময় চেয়েছেন। 

শুধু আজ সালভো কেমিক্যালই নয়, আরো ২০টির অধিক শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এসব শেয়ারের অন্যতম হলো- আরামিট সিমেন্ট, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউর্জি, ইন্ট্রাকো সিএনজি রিফুয়েলিং, বিডি মনোস্পুল পেপার, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, পেপার প্রসেসিং, বিবিএস কেবলস, নিটল ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু ফেব্রিক্স, বেঙ্গল উইন্সসর থার্মো প্লাস্টিক, সালকো স্পিনিং, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এশিয়ার প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

এদিকে পর পর দুইদিন বেশিরভাগ শেয়ার দর হারানোর পর আজ লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা শেষে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। সূচকও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

ডিএসইতে দুপুর ১টায় ২০৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১২৬ শেয়ার ও ফান্ড এবং দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির।

ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় প্রায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয় ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকার শেয়ার।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুপুর ১টায় বীমা, প্রকৌশল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

বিপরীতে ব্যাংক এবং বস্ত্র খাতের দর হারানো শেয়ারের তুলনায় দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার সংখ্যা কম ছিল।

প্রথম তিন ঘণ্টার লেনদেনে বীমা খাতের আধিপত্য রয়েছে। ১টা পর্যন্ত এ খাতের ৫০ কোম্পানির ৪৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা এ সময় পর্যন্ত মোট লেনদেনের ৩১.৫১ শতাংশ ছিল। গতকালের লেনদেনে বীমা খাতের অংশ ছিল মোটের ২৮.৫৫ শতাংশ।

বিষয় : সালভো কেমিক্যাল শেয়ারদর

মন্তব্য করুন