গত দুই মাসেরও কম সময়ে বস্ত্র খাতের কোম্পানি মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বেড়ে প্রায় আড়াই গুণ হয়েছে। জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এর কারণ জানিয়েছে কোম্পানিটি।

গত ১১ এপ্রিলের শেয়ারটি সাড়ে ১২ টাকা থেকে দরবৃদ্ধি শুরু হলেও গত ২৮ এপ্রিল শেয়ারটি ১৩ টাকা দরেও কেনাবেচা হয়। এর পর দরবৃদ্ধি রকেট গতি পায়। দুই মাসেরও কম সময়ে শেয়ারটির দর বেড়ে আজ ৩১ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

গতকালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি এবং সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হলেও এখন এর বিক্রেতা নেই। আরো বেশি দর পাওয়ার আশায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের সিংহভাগই শেয়ারটি ধরে রাখছেন।

সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় সর্বোচ্চ ৩১ টাকা ৬০ পয়সা দরে সাড়ে তিন কোটি শেয়ারের ক্রয় আদেশ ছিল। কিন্তু বিক্রেতা ছিল না একটি শেয়ারেরও। তবে আগের দেড় ঘণ্টায় ৫ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে।

হঠাৎ এর দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছিল ডিএসই। এর জবাব গতকালই দিয়েছে কোম্পানিটি। আজ বুধবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কোম্পানির বর্তমান প্রকল্পের আধুনিকায়ন ছাড়াও ময়মনসিংহের ভালুকায় নতুন কারখানা স্থাপন করবে।

গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মালেক স্পিনিং।

মালেক স্পিনিং জানিয়েছে, বর্তমান কারখানার আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কোম্পানিটির বিক্রি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এতে পণ্যের মান ভালো হবে এবং তাতে বর্তমানের তুলনায় বেশি মূল্যে বিক্রি করা যাবে। এবং তাতে মুনাফার হারও বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে মালেক স্পিনিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ১৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত মে মাসের শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের ৪৭.৩৪ শতাংশ ছিল উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের ৩২.৯৫ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ১৯.৭১ শতাংশ ছিল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

গত ৩১ মার্চ শেষে চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছিল। এতে ইপিএস দাঁড়িয়েছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

জানতে চাইলে মালেক স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব সৈয়দ সাইফুল হক সমকালকে জানান, বর্তমান কারখানার আধুনিকায়ন (বিএমআরই) এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আগামী দুই বছর আগের সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এ প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোম্পানি তহবিলের বাইরে ব্যাংক ও অন্য উৎসের ঋণ থেকে অর্থায়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে কোন উৎস থেকে কতটা অর্থ সংগ্রহ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।

এই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণ নেই। যারা বেশি দরে শেয়ার কিনেছেন, তারাই বলতে পারবেন- কোন কারণে বা কী খবরে ভরসা রেখে শেয়ার কিনেছেন।