অস্থিরতা বিরাজ করছে শেয়ারবাজার লেনদেনে। অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধির পর এখন কমছে বীমা খাতের শেয়ারদর। একই অবস্থা ব্যাংক খাতের শেয়ারে। বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের স্থানে পরিবর্তনের এ সময় বাজার মূল্য সূচকের ওঠানামায় বেশ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। 

বাজার লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক-বীমার জায়গায় বিনিয়োগে স্থান করে নিচ্ছে জুনে হিসাব বছর শেষ হয় এমন কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে প্রকৌশল, বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারই এগিয়ে রয়েছে।

গত কয়েকদিন এবং বুধবারের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, দরপতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও নতুন করে বীমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কয়েকদিন আগেও লেনদেনে একক আগ্রাসী আধিপত্যের অবস্থান হারিয়েছে বীমা খাত।

এক সময় বীমা খাতের শেয়ারগুলো ডিএসইর মোট লেনদেনের অর্ধেকটা দখল করলেও মঙ্গলবার লেনদেনের পুরো সময়ে ব্লকের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেনসহ মোট প্রায় ৩৯২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, যা ছিল গতকালের মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ। 

বুধবার প্রথম আড়াই ঘণ্টার লেনদেনে মাত্র ১০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যা ছিল এ সময় পর্যন্ত ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯.৪৮ শতাংশ।

মঙ্গলবারের মত আজও খাতওয়ারি লেনদেনে এগিয়ে আছে বস্ত্র খাত। মঙ্গলবার ডিএসইর মোট লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল মোটের পৌনে ২৪ শতাংশ। আজও একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। 

মঙ্গলবার প্রকৌশল খাতের লেনদেন ছিল মোটের ৯.৮১ শতাংশ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেনে তা বেড়ে ১১.৫৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 

ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন গতকাল ছিল মোটের ৯.১২ শতাংশ। বুধবার প্রথম আড়াই ঘণ্টার লেনদেনে তা বেড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএসইতে ২০৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৩৭টি। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৩১ শেয়ার।

এ সময় ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির মধ্যে ২১টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২টির। বাকি ৮টির দর ছিল অপরিবর্তিত।

বীমা খাতের লেনদেনে আসা ৪৯ শেয়ারের মধ্যে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৯টি।

এ সময় বস্ত্র খাতের ৫৮ শেয়ারের মধ্যে ২৩টি দর বেড়ে এবং ২৮টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

প্রকৌশল খাতের ৪২ শেয়ারের মধ্যে ৩০টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেনে আসা ৩১ শেয়ারের মধ্যে ১৯টি দর বেড়ে এবং ১০টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ১৫ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৫টি।

দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএসইতে ৯ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করছিল ১১ শেয়ার। এগুলো হলো- মুন্নু সিরামিক, বিডি মনোস্পুল পেপার, মুন্নু ফেব্রিক্স, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, ফার কেমিক্যাল, পেপার প্রসেসিং, মালেক স্পিনিং, ফু-ওয়াং ফুড, সেন্ট্রাল ফার্মা, অলিম্পিক এক্সেসরিজ এবং পিএফ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড।

বিপরীতে সাড়ে ৬ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল পাইওনিয়া ইন্স্যুরেন্স। সর্বশেষ ১৭০ টাকা ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। দরপতনে এর পরের অবস্থানে দেখা গেছে, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, আরামিট সিমেন্ট, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।

সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১ হাজার ৯৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। 

এ সময় ডিএসইএক্স সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬১১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।