আগের দুইদিন সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়ার পর মঙ্গলবারও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয় ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।

এদিন লেনদেন শুরুর আগে ওপেনিং সেশনেই ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ১৪২ টাকায় শেয়ার কেনাবেচার আদেশ ছিল। ১০টায় লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ওই দরে ৪ লাখ ০৬ হাজার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

দুপুর ১২টায় ১৪২ টাকা দরেই কোম্পানিটির ৮ লাখ ৬৯ শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ সময় একই দরে আরও ১০ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শেয়ারের ক্রয় আদেশ ছিল। কিন্তু বিক্রি আদেশ ছিল না।

এরআগে, গত ৪ এপ্রিল শেয়ারটি ৬২ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। এরপর থেকে লাফিয়ে বাড়ছে ডেল্টা লাইফের শেয়ারদর। 

সরকারি কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরোর শেয়ার ক্রয় বর্তমানে শেয়ারটির দরবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ আছে, তার বিনিয়োগের ফলে গত বছর থেকে হঠাৎ করে লাগামহীনভাবে বাড়ছে বীমা খাতের অনেক কোম্পানির শেয়ারদর। 

সোমবার সমকালের কাছে আবুল খায়ের হিরো নিশ্চত করেন যে, তিনি ডেল্টা লাইফের শেয়ার কিনছেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, হিরো এবং তার অনুসারী দেশখ্যাত একজন ক্রিকেটার নতুন প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ক্রয় ডেল্টার শেয়ার দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সোমবারের সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর মঙ্গলবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৬৯ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপর বেশ কিছু শেয়ার ক্রমে দর হারালে সূচকটিও কমতে থাকে। 

দুপুর ১২টায় সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ২৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০৪২ পয়েন্টে অবস্থান করে। অবশ্য সূচকের এ অবস্থান আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেশি।

এ সময় ডিএসইতে ২১২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হয়। দর হারিয়ে কেনাবেচা হয় ১১৩ শেয়ার এবং দর অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির।

দুপুর ১২টায় খাতওয়ারি লেনদেন পর্যলোচনায় দেখা যায়, এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাগজ ও ছাপাখানা, পাট, টেলিযোগাযোগ, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক, ওষুধ ও রসায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বিবিধ খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

প্রকৌশল এবং সিমেন্ট খাতের বেশিরভাগ শেয়ারও দর বেড়ে কেনাবেচা হয়। একই ধারায় ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। তবে ব্যাংক এবং বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ শেয়ারকে দুপুর ১২টায় দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবারের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে অন্তত ১৫ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর বা এর কাছাকাছি দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে, যার বড় অংশেরওই বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে ক্রেতা ছিল না। এসব শেয়ারের বেশিরভাগই রুগ্ন হিসেবে চিহ্নিত।

শেয়ারগুলো হলো- জিলবাংলা সুগার মিলস, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জুট স্পিনার্স, বিডি মনোস্পুল পেপার, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, পেপার প্রসেসিং, দুলামিয়া কটন, ইমাম বাটন, খুলনা প্রিন্টিং, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, মুন্নু ফেব্রিক্স, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

এ সময় ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে ডিএসইতে লেনদেন তালিকার শীর্ষে ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। ১৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে ৫১৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ লেনদেন গত সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।