সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক গড় শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ আগের যেকোনো বছরের জুন মাসের গড় শেয়ার কেনাবেচাকে ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি বছরের জুনে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৯৭৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা ১৯৫৬ সালে এ শেয়ারবাজার চালুর পর জুনের গড় লেনদেনের হিসাবে সর্বোচ্চ। এ লেনদেন ২০১০ সালের শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের বছরের জুন মাসের দৈনিক গড় লেনদেনের তুলনায়ও ২১৫ কোটি টাকা বেশি। 

সদ্য সমাপ্ত জুনের ২২ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সব শেয়ারের মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যে কোনো বছরের জুনের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৭৭৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ২০১০ সালের জুন মাসে। ওই মাসে দৈনিক গড়ে কেনাবেচা হয়েছিল এক হাজার ৭৬২ কোটি ৪২ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার। ওই জুনেও মোট কার্যদিবস ছিল ২২টি।

তবে যেকোনো মাসের বিবেচনায় চলতি বছরের জুনের গড় লেনদেন ডিএসইর ৬৫ বছরের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ। নির্দিষ্ট মাসের মোট লেনদেনের হিসাবেও এ লেনদেন তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ডিএসইর ইতিহাসে টাকার অংকে এক মাসের সর্বোচ্চ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ২০১০ সালের নভেম্বরে। ওই মাসে ১৯ কার্যদিবসে মোট ৪৭ হাজার ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। গড় লেনদেন ছিল দুই হাজার ৪৮২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

মাস ও মাসে দৈনিক গড় হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ২০১০ সালের অক্টোবরে। ওই মাসের মোট ২০ কার্যদিবসে ডিএসইতে ৪৬ হাজার ৮০০ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। দৈনিক গড় শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩৪০ কোটি ৪ লাখ টাকা।

ডিএসইর ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর। ওইদিনের পরই শেয়ারবাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ধস নেমেছিল।