সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের বিপুল ক্রেতা চাহিদা রয়েছে। সদ্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ার ৪ কোটি ৭৫ লাখ। কিন্তু আজ সোমবার সকাল ১০টায় দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির ৫ কোটিরও বেশি শেয়ার ক্রয়ের আদেশ পড়েছে।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার পৌনে ৫ কোটি হলেও আইপিওতে বিক্রি হওয়া শেয়ারের বেশি শেয়ার এখন হাতবদলের সুযোগ নেই। আইপিও প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৯০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে মোট ১৯ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছিল।

কিন্তু প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতেই ক্রয় চাহিদা ছিল ৪ কোটি ৫৫ লাখ শেয়ারের। আর দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৪৯ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি শেয়ার ক্রয়ের আদেশ ছিল বিনিয়োগকারীদের থেকে। কিন্তু উভয় শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির বিপুল এ শেয়ার ক্রয়ের চাহিদার বিপরীতে কোনো বিক্রেতাই ছিলেন না। 

এ দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে এ কোম্পানির মাত্র ৫৪৪টি এবং সিএসইতে মাত্র ২টি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেন শুরুর দিনেও ৫ কোটিরও বেশি শেয়ারের চাহিদা ছিল। ওইদিন ডিএসইতে ১১ টাকা দরে মাত্র ১ হাজার ১০১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছিল। এতটা শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ না থাকার পরও এই বিপুল ক্রয় আদেশ প্রদান উদ্দেশ্য প্রণোদিত হতে পারে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক মাস ধরে বীমা খাতের শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। কোনো কোনো শেয়ারের দর এক বছরের ব্যবধানে ১৫গুনও হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ধরনের কারসাজির অভিযোগ আছে। এ কারণে বীমা খাতের শেয়ারটি পেতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও শেয়ার সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে অন্যান্য শেয়ারের মত স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০০ টাকার কম দামি শেয়ার নির্দিষ্ট দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশিতে বা ১০ শতাংশ কমে কেনাবেচা হতে পারবে।

আইপিওতে ১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া শেয়ারটি লেনদেনের প্রথম দিনে গত বুধবার আইপিও ইস্যু মূল্যের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশিতে অর্থাৎ ১১ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। আজ দ্বিতীয় দিনের আরও ১০ শতাংশ দর বেড়ে ১২ টাকা ১০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।