দেশব্যাপী সর্বাত্মক ও কঠোর লকডাউন আরোপের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও বেশ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লেনদেন হচ্ছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। বীমা ছাড়া বাকি সব খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে।

তবে অন্য সব খাতের তুলনায় এগিয়ে বস্ত্র খাত। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২ টায় এ খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে একটি বাদে সবগুলো দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় গড়ে এ খাতের সব শেয়ার ৬ শতাংশের ওপর দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

এমনকি ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে বস্ত্র খাতের একক প্রাধান্য দেখা গেছে। দুপুর ১২টায় এ বাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৬টি এবং দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ১২টিই ছিল বস্ত্র খাতের।

সাড়ে ৯ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করা এই শেয়ারগুলো হলো- জাহীন স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, সাফাকো স্পিনিং, এমএল ডাইং, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, প্যাসিফিক ডেনিম, অলটেক্স, ডেল্টা স্পিনার্স, ইভিন্স টেক্সটাইল এবং আরএন স্পিনিং।

এসব কোম্পানি বস্ত্র খাতের অপেক্ষাকৃত দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ার। নানা গুজবে এসব কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে।

গত কয়েকদিনে বস্ত্র খাতের বিষয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক খবর এ খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে কারসাজিমূলক লেনদেনেরও বড় প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা।

দুপুর ১২টায় দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০-এ অবস্থা করা বাকি শেয়ারগুলো হলো- ইয়াকিন পলিমার, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, বিআইএফসি, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পেপার প্রসেসিং, এমারেল্ড অয়েল, দেশবন্ধু পলিমার, ওয়েস্টিন মেরিন শিপইয়ার্ড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

আজকের লেনদেনের দ্বিতীয় ঘণ্টা শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৭৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২৫৪টি। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১০২টি এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে ১৭টিকে।

অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হওয়ায় বাজার মূল্য সূচকে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সূচক এ সময় ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬২০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচকের এ অবস্থান ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ৯৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। 

একক খাত হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছিল বস্ত্র খাত। ১২টা পর্যন্ত এ খাতের ৫৮ কোম্পানির ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা ছিল এ পর্যন্ত লেনদেনের ২৮.৩৭ শতাংশ। গত বুধবারের লেনদেনে বস্ত্র খাতের অংশ ছিল মোটের ১৩.৮৮ শতাংশ।

খাতওয়ারি হিসেবে বস্ত্রের পরের অবস্থানে বীমা খাত। এ সময় বীমা খাতের ৫১ কোম্পানির মোট ১৩৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, যা ছিল ডিএসইর ওই সময় পর্যন্ত মোট লেনদেনের ১৪.১২ শতাংশ। গত বুধবার ডিএসইর মোট লেনদেনে বীমা খাতের অংশ ছিল ১৮.২৯ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে এ সময় লেনদেনে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, কেনাবেচা হয়েছিল ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার। ৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল এমএল ডাইং। ৩৪ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল কেয়া কসমেটিক্স।

প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৮৮ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে, ৬৫টি দর হারিয়ে এবং ১৮টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় পর্যন্ত এ বাজারে ৩৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

বিষয় : শেয়ার বাজার বস্ত্র খাত শেয়ার দর লকডাউন উল্লম্ফন

মন্তব্য করুন