গত তিন দিনের তুলনায় আজ বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেনে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ও সূচক ওঠানামায় অস্থিরতা তুলনামূলক কম। বরং সূচকে ক্রম উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবে এ উত্থানে ৪ থেকে ৫টি শেয়ারের অবদান সবচেয়ে বেশি।

দিনের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৯০.৯৬ পয়েন্টে দেখা গেছে। এটাই এ সূচকের এ যাবৎ কালের রেকর্ড অবস্থান।

অবশ্য সূচকের এই বৃদ্ধিতে বেক্সিমকো লিমিটেড, বিকন ফার্মা এবং বেক্সিমকো ফার্মার অবদান প্রায় ৩৩ পয়েন্ট। এর বাইরে বেশিরভাগ ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধিও সূচকে বড় অবদান রেখেছে।

সূচক বৃদ্ধিতে খাতওয়ারি অবদানে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতের কারণে সূচক বেড়েছে প্রায় ১৮ পয়েন্ট।

১৭ পয়েন্টের বেশি যোগ করে এর পরের অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত। অবশ্য এর মধ্যে একা বেক্সিমকো লিমিটেডেরই অবদান প্রায় ১৪ পয়েন্ট।

এছাড়া বস্ত্র খাতের কারণে ১১ পয়েন্ট এবং ব্যাংক খাত সূচকে ১০ পয়েন্ট যোগ করেছে।

বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় অবশ্য সূচকে এ খাতের নেতিবাচক প্রভাব ছিল ৩ পয়েন্ট। টেলিযোগাযোগ খাতের শেয়ারের দর কমায়ও সূচক ২ পয়েন্ট হারায়।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে আসা ৩৭৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৪৩টি বা ৬৫ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১১৩ শেয়ার, যা মোটের ৩০ শতাংশ।

খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় ব্যাংক, প্রকৌশল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্য ও প্রযুক্তি, কাগজ ও ছাপাখানা, সিরামিক, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বিবিধ খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

এ সময় বীমা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। বীমা খাতের লেনদেনে আসা ৫০ কোম্পানির মধ্যে ৩২ শেয়ারই দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডও দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

তালিকাভুক্তির দ্বিতীয় দিনের সাউথবাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বেড়ে ১২.১০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অবস্থান করছে দরবৃদ্ধির শীর্ষে।

৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির এর পরের অবস্থানে দেখা গেছে শাইনপুকুর সিরামিক, শ্যামপুর সুগার মিলস, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল এবং নূরানী ডাইং। 

৭ থেকে প্রায় ৯ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির এর পরের অবস্থানে ছিল আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সিএনএটেক্স, ডমিনেজ স্টিল, তাল্লু স্পিনিং, বিকন ফার্মা, আজিজ পাইপস, জিলবাংলা সুগার মিলস এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানির অধিকাংশই রুগ্ন বা বন্ধ কোম্পানি। মাত্র দুই দিন আগে ডিএসই জানিয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জটির একটি পরিদর্শক দণ নূরানী ডাইংয়ের ফেনীস্থ কারখানা এবং ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে তা বন্ধ পেয়েছে। 

আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরও কোম্পানিটির কার্যক্রম যে বন্ধ, তা কোম্পানিটি স্টক এক্সচেঞ্জ বা শেয়ারহোল্ডারদের জানানোর প্রয়োজনও বোধ করেনি নূরানী ডাইং কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা। অথচ এ কোম্পানির শেয়ার আজ দরবৃদ্ধির শীর্ষে।

বিপরীতে পৌনে ৭ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে দেখা গেছে, পিএফ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডকে। দরপতনে এর পরের অবস্থানে ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, আইএফআইএলস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রথম জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। এসব শেয়ার ও ফান্ড গতকালের তুলনায় ৩ শতাংশ বা তার বেশি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ১ হাজার ২২৩.৬০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে বেক্সিমকো লিমিটেড ছিল প্রথম অবস্থানে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের ৪৬.৬৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। 

খাতওয়ারি লেনদেনে ২৮০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। ১৫৬ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত; অবশ্য এর ১৩০ কোটিই একা বেক্সিমকো লিমিটেডের।