বাজার মূল্য সূচক গতকাল বুধবার খানিকটা কমার পর আজ বৃহস্পতিবারও সূচকের ওঠানামায় বেশ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। একবারে সূচক যতটা পড়ছে, পরের একই সময়ে ওই পরিমাণ সূচক বেড়ে যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নেপথ্যে থেকে কেউ না কেউ সূচকের পতন ঠেকাতে কাজ করছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, গত কিছুদিনে বেশ কিছু শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনেক বিনিয়োগকারী তা বিক্রি করে মূলধনবৃদ্ধিজনিত মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করছেন।

আবার শেয়ারবাজারমুখী অবাদ অর্থ প্রবাহ বাধা তৈরি করতে পারে- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছে। বাজারের বড় ও কৌশলী বিনিয়োগকারীদের একটা অংশ এখন সর্তক বিনিয়োগ করছেন। এতে শেয়ার চাহিদা কমেছে। তাতে বাজার মূল্য সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আজ সূচকের ‘শার্প’ উত্থান-পতন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা। তারা বলেন, পরিস্থিতি দেখে এটা মনে হচ্ছে, কেউ চাচ্ছে না এখন সূচকের পতন হোক। তাই যে সব শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচকে বেশি প্রভাব ফেলে, সেসব শেয়ার আগ্রাসীভাবে কিনে, ওই সব শেয়ারের দর এবং সূচক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণে দুই দফায় এমন সূচকের উত্থান-পতন দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় আরো একটি পতন শুরু হয়েছিল।

আজ দিনের লেনদেনের শুরুতে ডিএসইএক্স সূচক যাত্রা শুরু করেছিল ৬৭৭১.৮৫ পয়েন্ট থেকে। প্রি-ওপেনিং সেশনের লেনদেনে ভর করে সূচকটি সাড়ে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৭৭৮.৫১ পয়েন্টে ওঠে।

এর পর স্বাভাবিক লেনদেনের শুরু থেকে প্রথম ১৫ মিনিটে আগের অবস্থান থেকে ২১ পয়েন্ট হারিয়ে সোয়া ১০টায় ৬৭৫৭ পয়েন্টে নামে। কিন্তু এর পরের ১৪ মিনিটেই সূচকটি ফের ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১০টা ২৯ মিনিটে ৬৭৮০ পয়েন্ট ছাড়ায়।

সূচকের ওঠানামা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এর পরের সাত মিনিট সূচকটি অনেকটা স্থির থেকে ১০টা ৩৬ মিনিটে ফের পতন শুরু হয়। পরের ২১ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক ৩৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৭৮০ পয়েন্টে নেমে ফের পরের ৩৭ মিনিটে ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ পর্যায়ে যেসব শেয়ারের দরপতন সূচকে নিম্নমুখী প্রভাব ফেলছিল, তার শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মা, পূবালী ব্যাংক, আইএফআইসি, ইউসিবি, আল-আরাফা, ব্র্যাক, মার্কেন্টাইল, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট ব্যাংক।

বিপরীতে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে ইতিবাচক প্রভাব রাখছিল, সেগুলোর শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মা, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মা, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস।

দুপুর ১২টায় ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতনে সূচকটি হারিয়েছিল ২১ পয়েন্ট। বিপরীতে বীমা খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে যোগ করে ১৩ পয়েন্ট।

দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ১৫০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৮০টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৪৬ শেয়ার।

এ সময় ডিএসইএক্স গতকালের তুলনায় প্রায় ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৭৫৯.৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। কেনাবেচা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি টাকার শেয়ার।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পর শুধু বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। খাতটির ৫১ কোম্পানির মধ্যে ৪৮টির দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। সার্বিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ২.৭৪ শতাংশ। এর বাইরে বাকি সব খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

উল্লেখযোগ্য খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ২৯টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। এ খাতের সার্বিক দরপতনের হার ছিল ১.২০ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের ১৩ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৪টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১২ শেয়ার দর বেড়ে এবং ১৭টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

বস্ত্র খাতের ১৭ শেয়ারের দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে, একই সময় ৩১টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। অন্য সব খাতও কম-বেশি দরপতনের ধারায় ছিল।