চার মাস না পেরোতেই লগ্নি করা পুঁজি বেড়ে চারগুণ। গত এপ্রিলের শেষে যিনি মেট্রো স্পিনিং কোম্পানির এক লাখ টাকার শেয়ার কিনেছিলেন, তিনি এখনও শেয়ারগুলো বেচে না থাকলে তার শেয়ারের দাম এখন চার লাখ টাকার ওপরে।

গত এপ্রিলের শেষেও বস্ত্র খাতের এ কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল মাত্র ৮ টাকা। চার মাস না পেরোতেই শেয়ারটির দর আজ ৩২ টাকার ওপর।

এর মধ্যে গত এক মাসেই শেয়ারটির দর দ্বিগুণ হয়েছে। গত জুলাইয়ের শেষেও শেয়ারটির বাজারদর ছিল ১৬ টাকা। 

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে ৩৩.২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল। অবস্থান করছিল দরবৃদ্ধির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। 

চার মাসে চারগুণ হওয়ার পর এখনো শেয়ারদর বাড়ছে। এখনও শেয়ারের বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে বিক্রেতা শূন্য হচ্ছে। 

গত ২৯ এপ্রিল থেকে শেয়ারটির দর বাড়তে শুরু করে। দরবৃদ্ধির কারণ জানা যায় এর ঠিক এক মাস পর ২৭ মে। ওইদিন কোম্পানিটি গত হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

তাতে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়কালে কোম্পানিটি মোট ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা শেয়ার প্রতি ৬২ পয়সা মুনাফা করেছে। যেখানে ২০১৯-২০ হিসাব বছরে শেয়ার প্রতি বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি ১৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল।

আবার হিসাব বছরের নয় মাসে যেখানে শেয়ার প্রতি ৬২ পয়সা মুনাফা করেছে, সেখানে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে থেকেই এসেছে ৪২ পয়সা।

অস্বাভাবিক এ দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন আগেই ফাঁস হয়েছে বলে মনে করেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

তবে এরও আগে গত বছরের নভেম্বরে কোম্পানিটি ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং ফেনীতে বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইকোনোমিক জোনে ১০ একর জমি ৫০ বছর মেয়াদে ভাড়ায় লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেট্রো স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, জমি লিজ নিতে আবেদন করা হয়েছে। মূলত ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি। তবে কবে নাগাদ ইকোনোমিক জোন কর্তৃপক্ষ কবে জমি বুঝিয়ে দেবো, কবে এর ওপর কারখানা স্থাপন হবে, তার কোনো কিছুরই ঠিক নেই।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে নানা কোম্পানির শেয়ারদর হুটহাট করেই বাড়ছে। এক্ষেত্রে কারসাজি হচ্ছে বলে বাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিশ্বাস। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মূল মালিকপক্ষেরও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকে। তারা কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করেন। অনেক সময় বাজার জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে মিলে মুনাফা বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেখান।

এদিকে আজ লেনদেনের শুরুর প্রথম পৌনে এক ঘণ্টায় সূচক ওঠানামায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। তবে লেনদেন সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা কমে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সূচক।

দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ২৩২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১১টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৩ শেয়ার।

এ সময় ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮৮১.৯১ পয়েন্ট অবস্থান করছিল। 

যদিও ১০টা ৪৩ মিনিটে সূচকটি গতকালের তুলনায় কিছুটা পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৫৮.৯৭ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। পরের পৌনে এক ঘণ্টায় সূচক বেড়ে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় সূচকটি ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯৮৯৫.৯৮ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের দুই ঘণ্টা শেষে প্রকৌশল, বস্ত্র, সিমেন্ট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাগজ ও ছাপাখানা, ওষুধ ও রসায়ন, সেবা ও নির্মাণ এবং বিবিধ খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

বিপরীতে ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। মিশ্রধারায় ছিল বীমাসহ অন্য সব খাত।

৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আইপিডিসি, মেট্রে স্পিনিং, সাউথবাংলা ব্যাংক, রিজেন্ট টেক্সটাইল এবং মিথুন নিটিং।

১০৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। যদিও এ সময় শেয়ারটি ২.৪০ টাকা হারিয়ে ১০৪.২০ টাকায় নেমেছিল।

প্রায় ৪৮ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা। এ শেয়ারের ৪.৬০ টাকা দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৯৯.২০ টাকায়।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। একক খাত হিসেবে ২৩১ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত, যা মোট লেনদেনের ১৮.১৯ শতাংশ ছিল। ১৩.৫৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত।