দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববার ৭০০০ পয়েন্টের মাইলফলক পার হওয়ার পর সোমবারও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে আজকের প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেলেও দ্বিতীয় ঘণ্টায় সে অস্থিরতা অনেকখানি কাটিয়ে উঠেছে শেয়ারবাজার।

প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধির উপর ভর করে ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৮৫ পয়েন্ট উঠেছিল। কিন্তু পরের আধা ঘণ্টায় সূচকটি আগের অবস্থান থেকে ৪০ পয়েন্ট হারিয়ে ১০টা ৩৩ মিনিটে ৭০৪৫ পয়েন্ট নেমে আসে।

অবশ্য দুপুর ১২টায় আজকের প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এদিকে সূচকের অস্থিরতা কমলেও শেয়ার লেনদেনের গতি প্রথম ঘণ্টার তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। আজ প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে ৮০০ কোটি টাকা শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার। অর্থাৎ দ্বিতীয় ঘণ্টায় ৪৬২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে ৩৬৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেনে এসেছিল। এরমধ্যে ১৮২টির দর বেড়ে, ১৪৩টি শেয়ারকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৫০টি শেয়ার।

খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছিল। খাতটির ৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র চারটি। এ খাতটির দর বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

আরও যেসব খাত দরবৃদ্ধির ধারায় ছিল সেগুলো হলো- তথ্য ও প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও নির্মাণ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত।

সকাল ১১টায় তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে ৯টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। খাতটির সার্বিক দর বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

টেলিযোগাযোগ খাতের তিন কোম্পানির সবগুলোই এসময় দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। খাতটির সার্বিক বৃদ্ধির হার ছিল ১.০৫ শতাংশ।

সেবা ও নির্মাণ খাতের চার কোম্পানির মধ্যে তিনটির দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের লেনদেনে আসা ২১ কোম্পানির মধ্যে ১৫টি দরবৃদ্ধি পেয়ে এবং ৬টি হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

বিপরীতে ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। এ খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ২০টিকে হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। যেখানে দর বৃদ্ধি পেয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৫টি।

দুপুর ১২টায় সার্কিট ব্রেকার বা এর কাছাকাছি মূল্যে কেনাবেচা হচ্ছিল মোট ৮টি শেয়ার। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৬টি। শেয়ারগুলো হলো- তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, ডোরিন পাওয়ার, এডিএন টেলিকম, ইস্টার্ন হাউজিং, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এনভয় টেক্সটাইল।

আরও ২ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের কাছাকাছি মূল্যে কেনাবেচা হচ্ছিল, সে দুটি হলো ফার্মা এইডস এবং বাটা সু। এ দুটির দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ৬৮ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করতে দেখা গেছে সাইফ পাওয়ারটেক কোম্পানিকে। লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডোরিন পাওয়ার এর ৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেড কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ৫০ কোটি।