টানা অষ্টম দিনের ঊর্ধ্বমুখী সূচক নবম দিনে এসে নিম্নমুখী হয়েছে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইক্স ৫৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৭২০২ পয়েন্টে নেমেছে।

যদিও নবম দিনে এসে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। ১০টা ৫৮ মিনিটে ডিএসইক্স সূচকটি গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৩৩৬ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। এটাই এ সূচকের এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এর আগের আট কার্যদিবসে ডিএসইক্স সূচক ৪৩৫ পয়েন্ট বেড়েছিল। রোববারের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার সূচক বৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে ৫১৩ পয়েন্ট বাড়ার পর সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রোববারের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত বৃহৎ বাজার মূলধনীসহ বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

এরপর প্রথমে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বেশকিছু বৃহৎ বাজার মূলধনী কোম্পানি শেয়ার দর হারাতে শুরু করলে সূচকও নিম্নমুখী হতে থাকে।

সূচক ক্রমে নিম্নমুখী হতে থাকলে ক্রমেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারানোর দলে যোগ দেয়।

শেষপর্যন্ত কেনাবেচা হওয়া ৩৭৬ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৬১টির এবং অপরিবর্তিত ৩২টির দর।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বীমা ছাড়া বাকি সব খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।

বড় খাতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ৩.১২ শতাংশ দর হারিয়েছে বস্ত্র খাত। খাতটির ৫৮ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৫১টি দর হারিয়েছে, বেড়েছে ৫টির এবং অপরিবর্তিত ২টির।

ছোট খাতগুলোর মধ্যে সিরামিক খাতের ৫ কোম্পানির গড়ে সর্বাধিক ৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। খাতটির ৫ কোম্পানির সবগুলোই রোববার দর হারিয়েছে।

গড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, তথ্য ও প্রযুক্তি, কাগজ ও ছাপাখানা এবং ভ্রমণ ও অবকাস খাতের শেয়ারের।

রোববার ডিএসইতে ২ হাজার ৭০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। একক কোম্পানি হিসেবে ৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। ৬৯ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে বেক্সিমকো ফার্মা দ্বিতীয় অবস্থানে, ৫২ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে স্কয়ার ফার্মা ছিল তৃতীয় অবস্থানে।

সার্বিক দরপতন সত্ত্বেও ৭ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়ে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল উত্তরা ফাইন্যান্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল হাউজিং, কহিনূর কেমিক্যাল, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফার্মা এইডস এবং এমবি ফার্মা।