শেয়ারবাজারে কয়েকদিন ধরে টানা অস্থিরতা চলছে। মঙ্গলবারের মত আজ বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি বিরাজমান। বড় উত্থান দিয়ে শুরু হয়। পরক্ষণেই শুরু হয় সূচকের পতন। ফের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে ব্যাপক দরপতনের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার। অবশ্য বেলা ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সূচক ২১ পয়েন্ট হারিয়েছে। 

আজ দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ১১ মিনিটে লেনদেনে আসা অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পেলে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৯৬ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। 

এর মাত্র ২৫ মিনিট পর (১০টা ৩৬ মিনিটে) ওই অবস্থান থেকে প্রায় ১১২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬ হাজার ৯৮৫ পয়েন্টেরও নিচে নেমে যায়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছু শেয়ার পতনের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। এতে সূচকটি প্রথম ঘণ্টার সর্বোচ্চ পতনের অবস্থান থেকে ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৪৮ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এ পর্যায়ে ফের বিক্রির চাপ বাড়লে আবারো নিম্নমুখী হয় সূচক।

বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিক্রির চাপ বেশি। এ কারণে বৃহৎ বাজার মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ারদর কমলে সূচকের বড় পতন হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির কারণ জানতে চাইলে সূত্র জানায়, একটি বেসরকারি কোম্পানির বন্ড ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান করতে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি করছে বলে জানাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, এ বিষয়টি তারাও শুনেছেন। তবে ওই বন্ডে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিয়েছে। চাইলে ব্যাংকগুলো ২০০ কোটি টাকার শেয়ারবাজার বিশেষ তহবিল থেকে বিনিয়োগ করতে পারবে। এজন্য বিদ্যমান পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রির কোনো প্রয়োজন নেই।

এদিকে বাজারের এমন উত্থান-পতনের বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি অন্ধকারে। এর ফলে নানা জন নানা তত্ত্ব হাজির করছেন। এতে বাজারে গুজব ব্যাপকহারে ডালপালা মেলছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর ব্যাপক দরপতনের সময় গুজব ছড়িয়েছিল, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। অবশ্য বিএসইসির চেয়ারম্যান সমকালকে জানান, এটা পুরোপুরি গুজব।

তবে ওইদিন টানা সপ্তম দিনের মতো শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছিল। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছিল ৭৬ পয়েন্ট। যদিও লেনদেনের শুরুর ১৫ মিনিটে ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে পরে লেনদেন শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ৮৯ পয়েন্ট হারিয়েছিল। অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পতনের ব্যবধান ছিল ১৭৮ পয়েন্টেরও বেশি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবারের দরপতনের বড় কারণ ছিল একটি বড় কারসাজি চক্রের ক্রমাগত শেয়ার বিক্রি। লেনদেনের শেষ আড়াই ঘণ্টার মোট শেয়ার বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ ছিল কারসাজি চক্রটির। ওইদিন অন্য সব শেয়ার দর হারালেও মঙ্গলবার বেশিরভাগ বীমার শেয়ারের দর বেড়েছিল। ডিএসইর ব্লক মার্কেটে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৮৮ কোটি টাকার শেয়ার ব্লকে কেনাবেচা হয়েছিল।

বাজার সূত্র জানিয়েছে, চক্রটি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ফোন করে তাদের অ্যাকাউন্টগুলোর পুরো শেয়ার বিক্রির আদেশ দেয়। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের আরো কিছু বিনিয়োগকারী জানলে, তারাও শেয়ার বিক্রি করতে থাকে। এতে ক্রমাগত দর হারায় অনেক শেয়ার। এতে মাত্র দেড় ঘণ্টায় ১৬০ পয়েন্টেরও বেশি হারিয়েছিল ডিএসইএক্স।

জানতে চাইলে বিএসইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ বিষয়টি কমিশনের সার্ভিল্যান্সেও ধরা পড়েছে। পরে চক্রটির প্রধানের সঙ্গে কমিশন কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে বিষয়ে কমিশন পুরোপুরি সচেষ্ট থাকবে বলেও জানান তারা।

সূচকের ওঠানামায় সর্বাধিক প্রভাব ফেলছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ, ওরিয়ন ফার্মা, আইএফআইসি ব্যাংক, লাফার্জ-হোলসিম, এনআরবিসি ব্যাংকসহ বেশ কিছু বৃহৎ বাজার মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের বড় ধরনের উত্থান-পতন।