সকালের ভয় জাগানিয়া দরপতনের ধারা থেকে বের হয়ে এসেছে শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতে প্রধান মূল্য সূচক ৯০ পয়েন্ট হারালেও দুপুর ১টায় লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা শেষে সেই সূচকই ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯২৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে। অর্থাৎ পতনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে থেকে সূচকটি বেড়ে এসেছে ১৬৬ পয়েন্ট। লেনদেন শুরুর মাত্র চার মিনিট পরই ৯০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৭৫৭ পয়েন্টে নেমেছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএসইসির সঙ্গে আইনগত বিষয়ে মতদ্বৈততা ও বিবদমান ইস্যুতে মঙ্গলবার বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- এ মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তার প্রভাবে সকালে ব্যাপক দরপতনে লেনদেন শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরপরই কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারী আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। এর ফলও পেয়েছে তারা। ধারণা করা হচ্ছে- এর নেপথ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় দরপতনের সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন ব্রোকারেজে হাউসে ফোন করে শেয়ার বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। এটা অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আজও তেমনটি হতে পারে।

দুপুর ১টায় ডিএসইতে ২০১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১১১টি এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ৫৮ শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে প্রায় ৭৭৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। যদিও লেনদেনের শুরুতে ৫৫ শেয়ার ছাড়া বাকি প্রায় সব শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যেসব শেয়ারের দরপতনে সূচকের বড় পতন হয়েছিল, সেগুলোর দর বাড়িয়ে পতন ঠেকানো হচ্ছে। যেমন- এ মুহূর্তে শেয়ারবাজার সূচক ওঠানামায় সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী শেয়ার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার আজ লেনদেনের শুরুতে প্রায় ১২ টাকা করে ১৫৫ টাকা ২০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। এতে সূচক হারিয়েছিল প্রায় ২৫ পয়েন্ট। কিন্তু দুপুর ১টায় ওই শেয়ারই গতকালের তুলনায় ২ টাকা বেড়ে ৬৯ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। যা সূচকে যোগ করে ৫ পয়েন্ট।

একইভাবে স্কয়ার ফার্মা, বিএসআরএম লিমিটেড রেনেটা, বেক্সিমকো ফার্মা দরপতন থেকে বেরিয়ে দরবৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী করতে বেশ ভূমিকা রাখছে।