দরপতন ঠেকাতে নিচের সার্কিট ব্রেকার ফের দুই শতাংশে বেঁধে দেওয়ার প্রথম দিনে দেশের শেয়ারবাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও মূল্যসূচক বেড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৫২ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫৩৯ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের থেকে ২৬ কোটি টাকা বেশি।
গতকাল ডিএসইতে ৩৭৪টি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৩টির দর
বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৬১টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দর। তবে দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৫ শেয়ার ও ফান্ডের মধ্যে ১৩২টির দর বেড়েছে। এ বাজারে ৮৮ শেয়ার বা সাড়ে ৩৪ শতাংশের দর কমেছে।
এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, পতন রোধে শুধু সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা দুই শতাংশ বেঁধে দিয়েও নিশ্চিত থাকতে পারেনি বিএসইসি। বিক্রির চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে পতন ঠেকাতে সক্রিয়তা দেখা গেছে। তবে এ তৎপরতা ছিল শুধু ডিএসইকেন্দ্রিক। সূত্র জানায়, শেয়ার বিক্রির চাপ কমাতে গ্রাহকদের লিখিতভাবে বিক্রির আদেশ হাতে না রেখে কোনোভাবে শেয়ার বিক্রির আদেশ না বসানোর কড়া নির্দেশ ছিল। এ কারণে দুই বাজারে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় দিনের লেনদেন শুরু হয় অস্থিরতায়। লেনদেনের প্রথম ১৪ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬২০৩ পয়েন্ট ছাড়ায়। নিচের সার্কিট ব্রেকার মাত্র দুই শতাংশ হওয়ায় লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার মধ্যে প্রায় একশ শেয়ারের দর নিচের সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে।
এ অবস্থায় সকাল ১১টায় সূচকটি আগের অবস্থান থেকে ৩১ পয়েন্ট হারিয়ে ৬১৭২ পয়েন্টে নামে। এ পর্যায়ে দরপতন রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জোর চেষ্টা চালালে ক্রমে কিছু শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। এ পর্যায়ে সূচক আবারও বাড়তে থাকে।
লেনদেনের প্রথম পৌনে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সূচকের বৃদ্ধি ৩-৫ পয়েন্টে আটকে ছিল। শেষ পৌনে এক ঘণ্টায় ওই অবস্থান থেকে সূচকটি ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৬২৫২ পয়েন্ট ছাড়ায়। ক্লোজিং হিসেবে থেমেছে ৬২৩৭ পয়েন্টে।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একক খাত হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারদর সর্বাধিক প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। খাতটির লেনদেন হওয়া ২২ শেয়ারের মধ্যে ১৮টির দর বেড়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পৌনে দুই শতাংশ ও বস্ত্র খাতের সার্বিক শেয়ারদর দেড় শতাংশ বেড়েছে।
গতকাল ডিএসইতে পাঁচ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে ১৭ কোম্পানির শেয়ারের। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে বা প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে ছিল ইমাম বাটন। সাত শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এমারেল্ড অয়েল। এর পরের অবস্থানে থাকা এপেক্স ট্যানারি, ল্যুব-রেফ, লিবরা ইনফিউশনস, জিলবাংলা সুগার মিলস, মাইডাস ফাইন্যান্স ও রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বরের শেয়ারদর ছয় থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিপরীতে এজিএম ও ১০ বোনাস লভ্যাংশজনিত রেকর্ড ডেট শেষে দর সংশোধনের কারণে প্রায় ১১ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলো হলো- ন্যাশনাল লাইফ, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, সিলকো ফার্মা ও জাহিন স্পিনিং।