ব্যাপক দরপতনের পর হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। পরপর দুই কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৮১ পয়েন্ট বেড়েছে। এর মধ্যে গতকাল রোববারই বেড়েছে ১৩১ পয়েন্ট। বৃহৎ বাজার মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকে বড় ভূমিকা রাখলেও স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর প্রভাবও কম ছিল না।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাপক দরপতনের পর অনেক শেয়ারের দর বেশ কমে গিয়েছিল। তাছাড়া দরপতন ঠেকাতে সব শেয়ারের দরে নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই বেশ পছন্দ করেছেন। তাদের শেয়ার ক্রয়ই পুরো বাজার চিত্র বদলে দিয়েছে।

ডিএসইতে গতকাল ৩৭৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪২টির বা প্রায় ৯১ শতাংশের দর বেড়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ শেয়ারের দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। প্রতিটি খাতেরই সিংহভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন ২৯৪ কোটি টাকা বেড়ে ৮৩৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বস্ত্র এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ৮০ কোম্পানির গড় শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। ছোট খাতের মধ্যে সিরামিক এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের ৯ কোম্পানির দর বেড়েছে গড়ে পৌনে ৬ শতাংশ হারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১১ কোম্পানির দর সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। তুলনামূলক কম বেড়েছে ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের দর। এরপরও এ দুই খাতের শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধির হার ছিল ১ শতাংশের বেশি। বাকি সব খাতের গড় দর ২ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সর্বশেষ দুই কার্যদিবসের বৃদ্ধির আগে মে মাসজুড়ে লাগাতার দরপতনে নাকাল ছিল পুরো বাজার। গত ২৩ মে একদিনে ১১৮ পয়েন্ট বৃদ্ধির পরও ২৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত প্রায় এক মাস সময়কালে সূচকের পতন হয়েছিল ৪৮৯ পয়েন্ট।

যদিও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস সূত্রে জানা গেছে, ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী ধারার পরও গতকাল বেশ কিছু বড় বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ে বেশি আগ্রহী থাকায় ওই চাপ সামলে নিয়েছে বাজার। বিশেষত মূল্য সূচকের ক্রমাগত বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল অন্তত ২৩ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে (১০ শতাংশ বেশিতে) কেনাবেচা হয়েছিল। এর মধ্যে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল আট কোম্পানির শেয়ার। এগুলো হলো- অলটেক্স, দুলামিয়া কটন, ফ্যামিলিটেক্স, জেমিনি সি ফুডস, আইপিডিসি, পেপার প্রসেসিং, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড।

তবে ২১ শেয়ার ও ফান্ড সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরেও (২ শতাংশ কমে) কেনাবেচা হয়েছে, যার সাতটি লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল। শেয়ারগুলো হলো- এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, নর্দান ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। এর বাইরে ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডও সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের মাঝে এমন দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ার ও ফান্ডগুলো হলো- বিকন ফার্মা, বিআইএফসি, ঢাকা ব্যাংক, হা-ওয়েল টেক্সটাইল, রহিম টেক্সটাইল, রবি, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল এবং তুংহাই নিটিং।