শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি 'এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড' বা ইটিএফ নামে নতুন বিনিয়োগ পণ্য আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি চালু হবে। স্টক এক্সচেঞ্জের দাবি, ইটিএফ বাজারকে স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন পণ্য আনার প্রস্তুতির কথা জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া। রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, শিগগিরই অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচার পৃথক বাজার সৃষ্টিরও প্রস্তুতি চলছে। কোনো কোম্পানি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম সাইফুর রহমান মজুমদার, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. জিয়াউল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইটিএফ হলো মিউচুয়াল ফান্ডের মতো এক ধরনের বিনিয়োগ পণ্য। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সব শেয়ারে নয়; বরং নির্দিষ্ট মূল্যসূচকে অন্তর্ভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ হবে। প্রাথমিকভাবে ডিএস-৩০ সূচকভুক্ত ৩০ শেয়ারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ইটিএফ চালু হবে।

ডিএসইর এমডি বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড থেকে এ বিনিয়োগ পণ্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির এবং বাজার স্থিতিশীল করার জন্য বিশ্বব্যাপী ইটিএফ খুবই জনপ্রিয় বিনিয়োগ পণ্য। এর নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) প্রকাশ হবে। এনএভির কাছাকাছি মূল্যে ইটিএফ যাতে কেনাবেচা হয়, তা নিশ্চিত করবে তহবিল ব্যবস্থাপক। যদিও এর জন্য মার্কেট মেকার থাকবে না। এনএভির তুলনায় বাজারদর কমার উপক্রম হলে নির্দিষ্ট ব্রোকারের মাধ্যমে ক্রয় করে দর স্থিতিশীল করার চেষ্টা হবে। তবে সূচকের ওঠানামার সঙ্গে এর বাজারদর ওঠানামা করবে।

মিউচুয়াল ফান্ডের মতো অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান ইটিএফের অন্তত ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম বিনিয়োগ করবে এবং ইটিএফ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পদ ব্যবস্থাপক অন্তত ২ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে বা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় বিক্রি করে সংগ্রহ করবে।