সার্বিকভাবে শেয়ারবাজার পরিস্থিতি যখন নিম্নমুখী, তখন বীমার শেয়ার দর উল্টোপথে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও সিংহভাগ বীমার শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৫২ বীমার শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির। গড় দর বৃদ্ধির হার সোয়া ২ শতাংশ।

তবে গতকালের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লেনদেনের প্রথম অর্ধে বীমা খাতের তিন শেয়ার ছাড়া বাকি সবগুলোরই দরপতন হয়, কেনাবেচা হয় সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে। সোমবারের লেনদেন পরিস্থিতিও ছিল প্রায় একই রকম।

হঠাৎ বীমার শেয়ার দরের এমন উত্থান-পতন শেয়ারবাজারজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লাগাতার পতনের পর ২০২০ সালের জুলাই থেকে বীমার শেয়ার দরের উল্লম্ম্ফন দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল পুরো শেয়ারবাজার। মূলত কারসাজিতে ভর করে সে সময় সব বীমার শেয়ার কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ে।

রাতারাতি শেয়ারগুলোর দর দুই থেকে ১০ গুণ হয়। কিন্তু ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে দরপতন শুরু হয়। গত দেড় বছরে সর্বোচ্চ দরের তুলনায় অনেক বীমার শেয়ারের দর অর্ধেক থেকে তিন ভাগের এক ভাগে নামে।

এমন অবস্থায় ফের এ খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকে আবার এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে লেনদেনে এ খাত আবারও শীর্ষে উঠেছে। গতকালও বীমার ৫২ কোম্পানির ১৬৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২২ শতাংশের বেশি।

বীমা খাতে লেনদেন বাড়লেও ডিএসইর সার্বিক লেনদেন ব্যাপক হারে কমেছে। সোমবার যেখানে এ বাজারে ৯৭৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, গতকাল তা ২৪ শতাংশ কমে ৭৪০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।

সার্বিক হিসাবে গতকাল ৩৮০ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ২২৮টির এবং অপরিবর্তিত ৩৮টির। দিনের লেনদেনের মাঝে ১৭৬ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে (২ শতাংশ কমে) কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ৯৪টি।

সার্বিক দরপতনের মধ্যে পাইওনিয়ার, প্যারামাউন্ট ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর সাড়ে ৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে- সিটি জেনারেল, প্রগতি জেনারেল, সোনারবাংলা, গ্লোবাল ও রিলায়েন্স, রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর ও রূপালী ব্যাংকের।

অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৪৮০ পয়েন্টে নেমেছে। সোমবার সূচকটি হারায় ৮ পয়েন্ট। অবশ্য এর আগের সাত কার্যদিবসে বেড়েছিল প্রায় ৩১০ পয়েন্ট।