এখন থেকে আইপিও শেয়ার কিনতে আগেই শেয়ারবাজারে অন্তত ৫০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ থাকতে হবে এক লাখ টাকার। আইপিও আবেদনের প্রাক-যোগ্যতা হিসেবে নতুন এ শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গতকাল বুধবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকলে আইপিওতে আবেদন করতে পারতেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। নতুন বিএসইসি বলেছে, শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়ানো, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অভ্যাস গড়ে তোলা এবং
প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনের সুযোগ দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ার কথা বলে কমিশন এমন এক সময়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময় তিন দিনের (টি+২) পরিবর্তে দুই দিনে (টি+১) নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি কতখানি, তা জানতে চেয়ে সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার অর্থ হলো- ঘন ঘন শেয়ার কেনাবেচাকে উৎসাহিত করতে চায় সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকায় শেয়ারবাজারে তিন দিনেই শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। শুধু জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং এবং সিঙ্গাপুরে লেনদেন নিষ্পত্তি হয় দুই দিনে। সম্প্রতি ভারতেও পরীক্ষামূলকভাবে এটা চালু হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, আইপিও আবেদনে প্রাক-যোগ্যতা হিসেবে ৫০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আইপিও আবেদন করার সুযোগ হারাবেন। বিএসইসির এ সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিওতে আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করবে।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনার সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনে প্রাক-যোগ্যতার লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর যৌক্তিক কারণ আছে বলে তিনি মনে করেন না। ডে-ট্রেডিং বেশি হওয়ার কারণে এ বাজারে এমনিতেই অস্থিরতাও বেশি। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর কারণ সম্ভবত লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো। সম্ভবত ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কমিশন আয় বাড়াতে কমিশনকে এমন সুপারিশ করে থাকতে পারে।
তবে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমালেই লেনদেন বাড়বে- এমন ধারণা ভুল। ২০১৩ সালে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনে নামানো হয়েছিল। সাময়িকভাবে এর ফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদে লেনদেন না বেড়ে উল্টো কমেছিল।
প্রসঙ্গত, বর্তমান কমিশন এসে আইপিও আবেদন ও শেয়ার বণ্টন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক রদবদল করেছে। পতনোন্মুখ শেয়ারবাজারকে টেনে তুলতে আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাক-যোগ্যতা হিসেবে নূ্যনতম বিনিয়োগ থাকার শর্ত দিয়েছে। আবার আইপিওতে লটারি প্রথা বাতিল করে সব আবেদনকারীর মধ্যে সমহারে শেয়ার বণ্টনের নিয়ম চালু করেছে। আগে যেখানে নূ্যনতম এক লট শেয়ারের জন্য আবেদনে ওই পরিমাণ অর্থ জমা করলেই হতো। এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা জমা করতে হয়। কিন্তু শেয়ার পাচ্ছেন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার।
নাভানা ফার্মার আইপিও অনুমোদন :এদিকে গতকালের কমিশন সভায় নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। কোম্পানিটি ৭৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করবে আইপিওর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রস্তাব করা দরে শেয়ার কিনবেন। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কাট-অব-প্রাইস বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন যে দরে শেয়ার বিক্রি হবে, তার ৩০ শতাংশ ছাড়ে শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া গতকালের সভায় ব্লু-ওয়েথ প্রথম ব্যালান্স ফান্ড নামে ২৫ কোটি টাকার একটি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া অনুমোদন হয়েছে।
বাজার সংক্ষেপ :দুই দিন কমার পর গতকাল ডিএসইতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর, সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ১৯০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দর। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৮৪ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হয়েছে ৯১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার। বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং পাট ছাড়া বাকি সব খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে।