বাজেট ঘোষণার দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা তিন দিন দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। ঘোষিত বাজেটে শেয়ারবাজার নিয়ে তেমন কিছু না থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা হতাশ, যার প্রতিক্রিয়ায় দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্টরা। তবে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই মনে করছে, দুই-তিন দিনের দরপতন দেখে এমন বলার সুযোগ নেই। 

দুই-তিন মাস বাজার খারাপ থাকলে তখন বলা যাবে। রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর এমডি তারিক আমিন ভূঁইয়া এমন মন্তব্য করেন।

বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোকে স্বাগত জানালেও দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের কোম্পানিগুলোর এ সুবিধা না দেওয়া এবং শর্তের বেড়াজাল পেরিয়ে কোনো কোম্পানি করছাড় আদৌ পাবে কিনা, সে প্রশ্নের জবাব দেননি ডিএসইর এমডি।

এদিকে গতকাল সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৬৭ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। বস্ত্র খাত ছাড়া বাকি সব খাতের শেয়ারের দর কমেছে। তবে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩৯১ পয়েন্টে নেমেছে।

শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে ডিএসইর পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাজেটে বিবেচনা করা হয়নি স্বীকার করে তারিক আমিন ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় বাজেট শুধু শেয়ারবাজারের বাজেট নয়। বাজেটের মাধ্যমে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ভালো হলে শেয়ারবাজারও ভালো হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, বাজেটে ডিএসইর প্রস্তাব গ্রহণ না হলেও এখনও সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। বাজেট পাসের আগ পর্যন্ত সুযোগ আছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ আকৃষ্টে ডিএসইর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি পুনরায় বিবেচনা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

ডিএসইর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত এক লাখ টাকা করা, শেয়ার লেনদেনে উৎসে কর শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ নামিয়ে আনা, জিরো-কুপন বন্ডের মতো সব ধরনের করপোরেট বন্ডের কুপন সব বিনিয়োগকারীর জন্য করমুক্ত করা এবং এসএমই খাতের কোম্পানি করহার তালিকাভুক্তির প্রথম পাঁচ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা।

শেয়ার লেনদেনে উচ্চ উৎসে করের বিষয়ে তারিক আমিন ভূঁইয়া বলেন, প্রতি ১০০ টাকার শেয়ার লেনদেনে সরকার উৎসে কর নিচ্ছে পাঁচ পয়সা, যেখানে স্টক এক্সচেঞ্জ পাচ্ছে আড়াই পয়সা। এখানে ডিএসইর তুলনায় সরকারের আয় বেশি। দুনিয়ার আর কোথাও এ নিয়ম নেই।