টানা চার দিনে ১২২ পয়েন্ট পতনের পর গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩৭৪ পয়েন্টে উঠেছে। যদিও লেনদেনের শুরুতে প্রথম পাঁচ মিনিটেই প্রায় ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪১১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। লেনদেনের শেষ পর্যায়ে এসে সূচকটি ৬৩৫৭ পয়েন্টেও নেমেছিল।
সূচক খানিকটা বাড়লেও সার্বিক বিচারে শেয়ারদর ওঠানামায় মিশ্র ধারায় লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইতে ১৭৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৬১টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৬টির। তবে লেনদেন ৬৯ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ৯৪৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সার্বিকভাবে মিশ্র ধারার মধ্যে গতকাল আরএকে সিরামিকের শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ৫১ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে শেয়ারটির দর এক বছরের সর্বোচ্চ ৬৩ টাকা ছাড়ানোর পর টানা পৌনে চার মাস দরপতন হয়েছে। গত মে মাসে শেয়ারটির দর ৪০ টাকায় নামে। গত ২৫ মে থেকে নতুন করে বাড়ছে শেয়ারটির দর। সিরামিকস উৎপাদন বাড়াতে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের খবরে গতকালের দর বেড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্টরা।
আরএকে সিরামিকস ছাড়াও গতকাল আরও চার কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। এগুলো হলো- হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সায়হাম টেক্সটাইল। এর মধ্যে প্রথম দুটি লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। ১০ টাকা দরে তালিকাভুক্তির পর টানা ষষ্ঠ দিনে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়ে শেয়ারটি গতকাল ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে।
এদিকে গতকালও ডিএসইতে ১১০ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে (২ বা প্রায় ২ শতাংশ কমে) কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ৩৬টি। এর বাইরে লভ্যাংশজনিত ঘোষণার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বিআইএফসি, বীমা খাতের বাংলাদেশ জেনারেল ও পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের ৫ থেকে ৬ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে লোকসানের কারণে রুগ্‌ণ বিএফআইসির পর্ষদ টানা অষ্টম বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ নগদ সাড়ে ১২ শতাংশ এবং পূরবী জেনারেলের পর্ষদ তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।