শেয়ারবাজার ফের লাগাতার দরপতনের ধারায়। গত তিন দিন দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। বাছ-বিচারহীনভাবে শেয়ারের দর কমছে। তবে দরপতন ঠেকাতে শেয়ারদরে নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার কারণে বেঁধে দেওয়ার দরে প্রতিদিনই আটকে থাকছে অধিকাংশ শেয়ার। এতে লেনদেনও কমেছে।
তবে সার্বিক হিসাবে যাতে লেনদেন কম না দেখায়, তার ব্যবস্থা করতে ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে একাধিক পক্ষ নিজের বা নিজেদের এক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার বিক্রি করছে। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৭২৬ কোটি টাকারও কম শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ব্লক মার্কেটেই ১৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। সোমবারের লেনদেন চিত্রও ছিল একই রকম।
দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে গতকাল মঙ্গলবার ৩৮২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮২টিই দর হারিয়েছে। এর মধ্যে লেনদেনের মাঝে ২১২টি সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে। তবে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ১১২ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে আটকে ছিল। এর সিংহভাগ শেয়ার ক্রেতাশূন্য অবস্থায় দেখা গেছে।
সিংহভাগ শেয়ারের দর কমার কারণে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৪৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩১১ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে সূচক হারাল ১১৪ পয়েন্ট। ব্লক মার্কেটের ১০০ কোটি টাকার লেনদেনসহ ব্যাংক খাতের ১৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লেনদেন ছিল খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে। এর পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৯৭ কোটি টাকার লেনদেন। একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডের সাড়ে ৩৮ কোটি টাকার লেনদেন সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ২৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয় আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৪৫ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পুরো সময়ে সোমবারের তুলনায় দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়েছে, যেখানে মাত্র ১০ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পুরো সময়ে দর বেড়ে কেনাবেচা হয়েছে। যে গুটিকয় শেয়ারের দর বেড়েছে, সেগুলো হলো ইমাম বাটন ও মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। উভয় শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। এর বাইরে এমারেল্ড অয়েল, ফু-ওয়াং ফুডের দর সাড়ে ৪ শতাংশ করে বেড়েছে। ২ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে আরও ১১ শেয়ারের। এর অন্যতম হলো- আলহাজ্ব টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, দেশ গার্মেন্টস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক ও ওরিয়ন ইনফিউশনস।